ইমাম বুলকীনী রহ,  ছিলেন অষ্টম শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের একজন।  তিনি ছিলেন হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী রহ এর একেবারে খাস উস্তাদদের অন্যতম । মুকাদ্দিমাতু ইবনিস সালাহের উপর উনার টীকা মাহাসিনুল ইসতিলাহ তো প্রসিদ্ধ গ্রন্থ, এটা অনেকটা পড়ার সুযোগও হয়েছে আলহামদুলিল্লাহ । উনার মেধা এত বেশি ছিল যে তা প্রবাদতুল্য ছিল। মানুষ তো ভুলে যাওয়ার সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে এসেছে অন্যথায় তিনি এত কম বিস্মৃত হতেন যে বলা সম্ভব ছিল যে তিনি বিস্মৃতিহীন মানুষ ছিলেন। 

তিনি কামিলিয়া মাদরাসায় নিযুক্ত হওয়ার পর সেখানকার তত্ত্বাবধায়কের কাছে একটি থাকার ঘর দেয়ার আবদার  করেছিলেন, তখন সেই তত্ত্বাবধায়ক তাকে ঘর দিতে রাজি হননি এবং বিভিন্ন ওজর-আপত্তি পেশ করতে লাগলো।  হঠাৎ সেসময় তত্ত্বাবধায়কের পরিচিত একজন কবি চলে আসলো আর একটা কবিতা আবৃত্তি করে শুনাল। বুলকীনী রহ, তখন বললেন আমার কবিতাটি মুখস্থ হয়ে গেছে ।  তত্ত্বাবধায়ক অবাক হয়ে বলল যদি আপনি এখন এটা  শোনাতে পারেন তাহলে আমি আপনাকে ঘরের ব্যবস্থা করে দিব। তখন ইমাম বুলকীনী  পুরো কবিতাটা তাৎক্ষণিকভাবে শুনিয়ে দিলেন। তিনিও ঘরের ব্যবস্থা করে দিলেন। 

উনার ইলম এত বেশী ছিলো যে সকাল হতে যোহর পর্যন্ত তিনি একটা হাদীসের উপর দারস দিতেন। যোহরের আযান হয়ে যেত কিন্তু উনার আলোচনা শেষ হতো না। হাদীসের আলোচনাগুলো নোট করে লিখতে গেলে ছাত্রদের খাতা কাগজ ভরপুর হয়ে যেত। 

 আসর হতে মাগরিব পর্যন্ত আগত ফতোয়া - প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখস্ত লিখতেন। কোন বই দেখা লাগত না। মানুষও উনার ফতোয়া ছাড়া সন্তুষ্ট হতো না। 

তবে তিনি বই লিখে শেষ করতে পারতেন না। ইমাম ইবনু হাজার বলেন, আমাদের শায়খের ইলম এত বেশী যে তিনি কোন কিছু লেখলেই দীর্ঘ হয়ে যায়। তিনি বুখারীর মাত্র বিশটি হাদীসের ব্যাখ্যা দুই খন্ডে লিখেছেন। 

৮০৫ হিজরীতে ইমাম বুলকীনীর ইন্তেকাল হয়। তার মৃত্যুতে ইবনু হাজার রহ শতাধিক লাইনের শোকগাথা কবিতা লিখেন। রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা। 

- শায়খ আব্দুস সাত্তার শায়খের "ইমাম ইবনু হাজার" বই হতে সংক্ষেপে অনূদিত
পৃষ্ঠা ১১৩-১১৭, দারুল কলম