নবী করীম সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে মান্য করা এবং তাঁহার ও তাঁহার খলীফাদের অনুসরণ করা সম্পর্কে কতিপয় হাদীস
ইমাম বুখারী ও মুসলিম রহিমাহুমাল্লহ হযরত আবু মুসা রদিয়াল্লহু আ’নহু হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করিয়াছেন, আমার এবং আমাকে যাহা কিছু দিয়া আল্লহ তায়া’লা প্রেরণ করিয়াছেন উহার উদাহরণ হইল সেই ব্যক্তির ন্যায় যে তাহার কওমের নিকট আসিয়া বলিল, হে আমার কওম, আমি বিপুল পরিমাণ শত্রু সৈন্য প্রত্যক্ষ করিয়া আসিয়াছি এবং নিঃস্বার্থভাবে তোমাদিগকে উহা সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন করিতেছি, সুতরাং তোমরা জলদি প্রাণ রক্ষার পথ ধর! অতএব কওমের একদল লোক তাঁহার কথা মানিয়া লইল এবং সন্ধ্যাবেলাতেই রওয়ানা হইয়া গেল ও ধীরে-সুস্থে পথ চলিয়া তাহারা রক্ষা পাইয়া গেল। আর অপর একদল লোক তাহাকে মিথ্যাবাদী মনে করিল ও স্বস্থানে রহিয়া গেল। সকাল হইতেই শত্রু সৈন্য তাহাদের উপর আক্রমন করিল এবং তাহাদিগকে ধ্বংস করিল ও সমূলে বিনাশ করিয়া দিল। ইহা সেই দুই ব্যক্তির উদাহরণ–এক যে আমাকে মানিল এবং আমি যাহা লইয়া আসিয়াছি উহার অনুসরণ করিল, আর সেই ব্যক্তির উদাহরণ যে আমাকে মানিল না এবং আমি যে দ্বীনে হক লইয়া আসিয়াছি উহাকে মিথ্যা মনে করিল।
হযরত আ’ব্দুল্লহ ইবনে আ’মর্ রদিয়াল্লহু আ’নহুমা বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিয়াছেন, বনী ইসরাঈলের মধ্যে যাহা কিছু ঘটিয়াছে আমার উম্মতের মধ্যেও অবশ্যই তাহা ঘটিবে। (আমার উম্মতের অবস্থা তাহাদের সহিত এমন সামঞ্জস্যপূর্ণ হইবে) যেমন জুতা তৈয়ার করিতে সামঞ্জস্যতা রক্ষা করিতে হয়। এমনকি তাহাদের মধ্যে কেহ আপন মায়ের সহিত প্রকাশ্যে ব্যাভিচার করিয়া থাকে তবে আমার উম্মতের মধ্যেও এমন লোক হইবে যে এরূপ কাজ করিবে। বনী ইসরাঈল বাহাত্তর দলে বিভক্ত হইয়াছিল; আর আমার উম্মত তিয়াত্তর দলে বিভক্ত হইবে। তন্মধ্যে একদল ব্যতীত সকলেই জাহান্নামে যাইবে। সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রসুলুল্লহ! সেই দল কাহারা? তিনি বলিলেন, যাহারা সেই পথের উপর থাকিবে যাহার উপর আমি ও আমার সাহাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহুম রহিয়াছে। (তিরিমিযী)
হযরত ইরবায ইবনে সারিয়া রদিয়াল্লহু আ’নহু হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলিয়াছেন, একদিন রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়াইয়া আমাদের দিকে ফিরিলেন এবং আমাদিগকে এমন মর্মস্পর্শী ওয়াজ করিলেন, যাহাতে চক্ষু অশ্রুসিক্ত হইল ও দিল কম্পিত হইল। অপর এক ব্যক্তি বলিল, ইয়া রসুলুল্লহ! ইহা তো বিদায় গ্রহণকারীর শেষ নসীহাতের ন্যায় মনে হইতেছে; কাজেই আপনি আমাদিগকে কোন কাজ বিশেষ ভাবে করিতে বলেন। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদিগকে এই অসিয়ত করিতেছি যে, তোমরা আল্লহ তায়া’লাকে ভয় করিবে ও আমীরের কথা শুনিবে ও মানিয়া চলিবে, যদিও (আমীর) একজন হাবশী গোলাম হয়। আর তোমাদের যে কেহ আমার পর জীবিত থাকিবে সে (লোকদের মধ্যে) অনেক মতবিরোধ দেখিতে পাইবে। তখন তোমরা আমার ও আমার হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের তরীকার উপর থাকিবে; উহাকে মজবুত করিয়া ধরিবে এবং দাঁতে কামড়াইয়া ধরিয়া থাকিবে। আর মনগড়া বিষয় হইতে দূরে থাকিবে; কারণ প্রত্যেক মনগড়া বিষয় বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত গোমরাহী।
হায়াতুস সাহাবাহ ১ম খন্ড (দারুল কিতাব, ডিসেম্বর ১৯৯৯) পৃষ্ঠা ১২-১৪
0 মন্তব্যসমূহ