আবু উ’সমান রহমাতুল্লহ আ’লাইহি বলেন, আমি হযরত সালমান রদিয়াল্লহু আ’নহু এর সহিত একটি গাছের নিচে ছিলাম। তিনি সেই গাছের একটি শুষ্ক ডাল হাতে লইয়া নাড়িলেন, ফলে উহার পাতাগুলি ঝড়িয়া গেল। তারপর তিনি আমাকে বলিলেন, হে আবু উসমান, তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলে না যে, আমি কেন এমন করিলাম? আমি বলিলাম, বলুন কেন এমন করিলেন, একবার আমি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সহিত একটি গাছের নিচে ছিলাম। তিনিও আমার সহিত এমনই করিলেন, গাছের একটি শুষ্ক ডাল লইয়া নাড়িলেন, ফলে উহার পাতাগুলি ঝরিয়া গেল। তারপর তিনি বলিলেন, হে সালমান! তুমি জিজ্ঞাসা করিলে না যে আমি কেন এমন করিলাম? আমি বলিলাম, বলিয়া দিন কেন এমন করিলেন। তিনি বলিলেন, হে সালমান! একজন মুসলমান যখন অযু করে এবং তাহা উত্তমরূপে করে, অতঃপর সে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, তাহার গুনাহ সমূহ এমনভাবে ঝরিয়া পড়ে যেমন এই গাছের পাতা সমূহ ঝরিতেছে। তারপর তিনি কুরআন পাকের এই আয়াত তেলাওয়াত করিলেন–
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِّنَ اللَّيْلِ ۚ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ۚ ذَٰلِكَ ذِكْرَىٰ لِلذَّاكِرِينَ
অর্থঃ দিনের উভয় প্রান্তে (অর্থাৎ সকাল ও সন্ধ্যায়) এবং রাত্রের একাংশে নামায কায়েম কর। নিঃসন্দেহে নেক কাজ সমূহ গুনাহগুলিকে দূর করিয়া দেয়। যাহারা নসীহাত মানিয়া চলে তাহাদের জন্য ইহা একটি নসীহাত। (সূরা হুদঃ ১১৪) (আহমাদ, নাসায়ী)
আমের ইবনে সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রহমাতুল্লহ আ’লাইহি বলেন, হযরত সা’দ রদিয়াল্লহু আ’নহু ও সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের এক জামাত কে আমি বলিতে শুনিয়াছি যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জামানায় দুই ভাই ছিলেন। তন্মধ্যে একজন অপর জন অপেক্ষা উত্তম ছিলেন। উত্তমজন প্রথমে মারা গেলেন এবং অপরজন আরও কিছুদিন জীবিত থাকিয়া পরে মারা গেলেন। রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট কেহ দ্বিতীয় ব্যক্তির উপর প্রথম ব্যক্তির ফযীলত নিয়া আলোচনা করিলে তিনি বলিলেন, সে (দ্বিতীয় ভাই) কি নামায পড়ে নাই? সাহাবাহ রদিয়াল্লহু আ’নহুম বলিলেন, হ্যাঁ, ইয়া রসুলুল্লহ! রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, তোমরা কি জান, তাহার নামায তাহাকে কোথায় পৌছাইয়া দিয়াছে? তারপর তিনি এই উপলক্ষে বলিলেন, নামাযের উদাহরণ হইল এইরূপ, যেমন কাহারও ঘরের সম্মুখে একটি সুমিষ্ট ও গভীর নহর প্রবাহিত থাকে, আর সে প্রত্যহ পাঁচবার উহাতে গোসল করে। তবে কি ধারণা তোমাদের? তাহার শরীরে কোন ময়লা থাকিবে কি? অন্য রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে, দ্বিতীয়জন প্রথমজনের চল্লিশ দিন পরে মারা গিয়াছিলেন।
হযরত আবু হুরইরহ রদিয়াল্লহু আ’নহু বলেন, কুজাআহ বংশের দুই ব্যক্তি রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আসিয়া একত্রে মুসলমান হইয়াছিলেন। তন্মধ্যে একব্যক্তি (কোন জিহাদে) শহীদ হইলেন, অপরজন একবছর পর মারা গেলেন। হযরত তলহা ইবনে উবাইদুল্লহ রদিয়াল্লহু আ’নহু বলেন, আমি স্বপ্নে দেখিলাম যিনি পরে মারা গেলেন তাঁহাকে শহীদের পূর্বে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হইল। ইহাতে আমি আশ্চার্যান্বিত হইলাম। আমি সকালবেলা রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উহা আলোচনা করিলাম। অথবা অন্য কেহ আলোচনা করিলে রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, সে কি তাহার (অর্থাৎ শহীদের) পর এক রমযানের রোযা বেশী রাখে নাই? ছয় হাজার রাকাত নামায পড়ে নাই? এবং একবছরে এত এত রাকাত নামায (বেশী) পড়ে নাই? অপর এক রেওয়ায়াতে বর্ণিত হইয়াছে যে, রসুলুল্লহ সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলিলেন, তবে তো উভয়ের মধ্যে আসমান যমীনের পার্থক্য হইয়া গিয়াছে। (আহমাদ)
হায়াতুস সাহাবাহ ৪র্থ খন্ড (দারুল কিতাব, মে ২০০৩) পৃষ্ঠা ৩৯১-৩৯২
0 মন্তব্যসমূহ