উত্তর: আল্লাহর প্রিয় বান্দাগনকে স্মরণ করে তাঁদেরকে মাধ্যম বানিয়ে বরকত লাভ করার নাম উসিলা। আল্লাহ তা’আলা তাঁদের কারনেই আপন বান্দাদেরকে রহম করেন। অতএব- ঐ সব নেক বান্দাগনকে উসিলা ধরার সরল অর্থ হচ্ছে- তাঁদেরকে মাধ্যম বা চ্যানেল ধরে মনোবাঞ্ছা পূরণের জন্য এবং মাকসুদ হাসিলের জন্য আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা করা কেননা, তাঁরা আমাদের তুলনায় আল্লাহর অতি নিকটে। আল্লাহ তা’আলা তাঁদের দোয়া ও সুপারিশ কবুল করে থাকে। এ প্রসঙ্গে একখানা হাদীস শরীফ উল্লেখযােগ্য। যথা: বুখারী শরীফে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ হতে একখানা হাদীসে কুদসী উল্লেখ করে নবী করিম (দ.) এরশাদ করেছেন-

قَالَ اللهُ تَعَالٰی مَنْ عَادٰی لَیْ وَلِیًّا فَقَدْ اٰذَنْتُهٗ بِالحَرْبِ وَمَا تَقَرَّبَ عَبْدِی بِشَیْءٍ اَحَبَّ اِلَیَّ مِمَّا افْتَرَضْتُهٗ عَلَیْهِ وَلَایَزَالُ عَبْدِیْ یَتَقَرَّبُ اِلَیَّ بِالنَّوَافِلِ حَتّٰی اُحِبُّهٗ فَاِذَا اَحْبَبْتُهٗ کُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِیْ یَسْمَعُ بِهٖ وَبَصَرَهُ الَّذِیْ یَبْصُرُ بِهٖ وَیَدَهُ الَّتِی یَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِیْ یَمْشِیْ بِهَا وَلَٸِنْ سَأَلَنِیْ لَاُعْطِیَنَّهٗ وَلَٸِنْ اِسْتَعَاذَنِیْ لَاُعِیْذَنَّهٗ(رَوَاهُ البُخَارِیُّ)

অর্থ: "আল্লাহ তায়ালা ঘােষনা করেছেন: যে কেউ আমার কারনে আমার কোন অলীর সাথে শত্রুতা পোষন করে, আমি তাকে যুদ্ধের জন্য আহবান জানাই। আমার বান্দা আমার নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে আমার সর্বাধিক প্রিয় যে ইবাদত করে তা হচ্ছে আমার নির্ধারন- কৃত ফরজ ইবাদত। আর তার ইচ্ছাকৃত নফল ইবাদতের মাধ্যমে ক্রমশ বা আমার নৈকট্য লাভ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সে আমার প্রিয় বন্ধু হয়ে যায়। আর যখন সে আমার দু হয়ে যায় তখন আমি তার শ্রাবণ শক্তি (কান) হয়ে যাই -যার মাধ্যমে সে শুনতে পায়। আমি তার দৃষ্টিশক্তি (চোখ) হয়ে যাই - যার মাধ্যমে সে দেখতে পায়। আমি তার ধারন শক্তি (হাত) হয়ে যাই- যার মাধ্যমে সে ধরে। আমি তার চলনশক্তি (পা) হয়ে যাই - যার মাধ্যমে সে চলাচল করে। আর যদি সে আমার কাছে কিছু চায়- তবে অবশ্য অবশ্যই আমি তাকে তা দেই। আর যদি সে আমার কাছে আশ্রয় চায় তবে অবশ্যই তাঁকে আমি আশ্রয় দেই”। [-বুখারী শরীফ]


এতে প্রমানিত হলাে- আল্লাহর প্রিয় বান্দার ডাক আল্লাহ নেন। তাঁরা আল্লাহতে মিশে যান (ফানা হয়ে যান) । তাদের মধ্যে খােদা প্রদত্ত (কুদরতি) শ্রবন শক্তি, দৃষ্টি শক্তি, ধারন শক্তি ও চলৎশক্তি এসে যায়। এগুলােকে কারামত বলে। অতএব- তাঁদের সুপারিশ আল্লাহ্ কবুল করেন। যেমন- লােহা আগুন নয়। কিন্তু আগুনের সংস্পর্শে এলে সে আগুনের শক্তি লাভ করে। তখন সেও আগুনের ন্যায় জ্বালাতে পারে। তদ্রুপ- আল্লাহর অলীগন আল্লাহ নহেন। কিন্তু ফানা ফিল্লাহ হয়ে গেলে খােদায়ী কুদরতি শক্তি লাভ করেন। তারা খােদার নিকট যা চান- তা পান। সেজন্যই লােকেরা মাজারে যান।
-(অনুবাদক)।

লেখক: অধ্যক্ষ হাফিজ মৌ এম. এ. জলিল