নবী করীম সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের সম্পর্কে কুরআনের কতিপয় আয়াত
মুহা’ম্মাদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কাহারও পিতা নহেন, কিন্তু তিনি আল্লহর রসূল এবং সমস্ত নবীর শেষ, আর আল্লহ তায়া’লা প্রত্যেক বিষয়েই খুব অবগত আছেন। (সূরা আহযাবঃ ৪০)
হে নবী, নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি এবং আল্লাহর আদেশক্রমে তাঁহার দিকে আহবায়করূপে এবং উজ্জ্বল প্রদীপরূপে। (সূরা আহযাবঃ ৪০)
আমি আপনাকে সাক্ষী ও সুসংবাদদাতা এবং ভয়প্রদর্শনকারীরূপে প্রেরণ করিয়াছি, যেন তোমরা আল্লহ ও তাঁহার রসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন কর ও তাঁহাকে সাহায্য কর এবং তাঁহাকে সম্মান কর; আর তোমরা সকাল-সন্ধ্যা তাঁহারই তাসবীহ পাঠ করিতে থাক। (সুরা ফাতহঃ ৮-৯)
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্য সহকারে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠাইয়াছি। আপনি দোযখীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইবেন না। (সুরা বাকারাহঃ ১১৯)
নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্য সহকারে সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠাইয়াছি। আর কোন সম্প্রদায় এমন ছিল না যে, তাহাদের মধ্যে কোন ভীতিপ্রদর্শনকারী অতীত হয় নাই। (সূরা ফাতিরঃ ২৪)
আমি আপনাকে সমগ্র মানব জাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠাইয়াছি। (সুরা ফুরকানঃ ২৮)
আর আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপই পেরণ করিয়াছি। (সূরা আম্বিয়াঃ ১০৭)
তিনিই তাঁহার রসূলকে হিদায়াত ও দ্বীনের হক দিয়া প্রেরণ করিয়াছেন, যেন উহাকে সকল দ্বীনের উপর প্রবল করিয়া দেন, যদিও মুশরিকগণ তাহা অপছন্দ করে। (সূরা তওবাহঃ ৩৩)
আর সেইদিন আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যে তাহাদের মধ্যকার এক একজন সাক্ষী তাহাদের বিরূদ্ধে খাড়া করিব এবং ইহাদের সকলের মুকাবেলায় আপনাকে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করিব; আর আপনার প্রতি এই কুরআন নাযিল করিয়াছি–যাহা সকল বিষয়ের বর্ণনাকারী এবং মুসলমানদের জন্য বড় হিদায়াত ও বড় রহমত এবং সুসংবাদ জ্ঞাপক। (সুরা নাহলঃ ৮৯)
আর এমনিভাবে আমি তোমাদিগকে মধ্যপন্থী সম্প্রদায় করিয়াছি, যেন তোমরা সাক্ষ্যদাতা হও মানবমন্ডলীর জন্য আর রসূল সাক্ষ্যদাতা হন তোমাদের জন্য। (সূরা বাকারাহঃ ১৪৩)
হায়াতুস সাহাবাহ ১ম খন্ড (দারুল কিতাব, ডিসেম্বর ১৯৯৯) পৃষ্ঠা ১৬-১৯
নবী করীম সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের সম্পর্কে কুরআনের কতিপয় আয়াত-২
আল্লহ তায়া’লা তোমাদের নিকট একটি উপদেশপত্র নাযিল করিয়াছেন, এমন একজন রসূল (প্রেরণ করিয়াছেন) যিনি তোমাদিগকে আল্লহ তায়া’লার সুস্পষ্ট নির্দেশসমূহ পড়িয়া পড়িয়া শুনাইতেছেন, যেন এমন লোকদিগকে যাহারা ঈমান আনে এবং সৎকাজ করে অন্ধকার হইতে আলোর দিকে আনয়ন করেন, আর যে আল্লহ তায়া’লার উপর ঈমান আনিবে এবং সৎকাজ করিবে, আল্লহ তায়া’লা তাহাকে (বেহেশতের) এমন উদ্যানসমূহে দাখিল করিবেন যাহার তলদেশ দিয়া নহরসমুহ বহিতে থাকিবা, তন্মধ্যে তাহারা সর্বদা অবস্থান করিবে; নিঃসন্দেহে আল্লহ তায়া’লা তাহাকে উত্তম জীবিকা দান করিয়াছেন (সূরা তলাকঃ ১০-১১)
আল্লহ তায়া’লা ঈমানদারদের প্রতি অনুগ্রহ করিয়াছেন, যখন তাহাদের প্রতি তাহাদেরই মধ্য হইতে এমন এক রসূল প্রেরণ করিয়াছেন, যিনি তাহাদিগকে পরিশুদ্ধ করিতে চাহেন এবং কিতাব ও জ্ঞানের কথা শিক্ষা দিতে থাকেন এবং নিশ্চয় তাহারা পূর্ব হইতে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে ছিল। (সূরা আল-ইমরনঃ ১৬৪)
যেমন আমি প্রেরণ করিয়াছি তোমাদের প্রতি এক রসূল তোমাদেরই মধ্য হইতে। তিনি তোমাদিগকে আমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করিয়া শুনাইতেছেন এবং তোমাদিগকে পরিশুদ্ধ করিতেছেন, আর তোমাদিগকে কিতাব ও জ্ঞানের বিষয় শিখাইতেছেন, আর তোমাদিগকে এমন বিষয় শিখাইতেছেন যাহার কিছুই তোমরা জানিতে না। অতএব (এই নিয়ামাতের দরুন) তোমরা আমার স্মরণ কর, আমিও তোমাদিগকে স্মরণ রাখিব এবং আমার শোকর কর না-শোকরী করিও না। (সুরা বাকারহঃ ১৫১-১৫২)
তোমাদের নিকট আগমন করিয়াছেন তোমাদেরই মধ্যকার এমন একজন পয়গম্বর, যাঁহার নিকট তোমাদের ক্ষতিকর বিষয় অতি দূর্বহ মনে হয়, যিনি তোমাদের অতিশয় হিতাকাঙ্খী, মুমিনদের প্রতি বড়ই স্নেহশিল, দয়াময়। (সূরা তওবাহঃ ১২৮)
আল্লহ তায়া’লার রহমতেই আপনি তাহাদের জন্য কোমল হৃদয় হইয়াছেন। পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হইতেন তবে তাহারা আপনার নিকট হইতে বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িত। সুতরাং আপনি তাহাদিগকে মাফ করিয়া দিন এবং তাহাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করুন এবং কাজে কর্মে তাহাদের সহিত পরমর্শ করুন, অতঃপর যখন আপনি সংকল্প দৃঢ় করিয়া লন তখন আল্লহ তায়া’লার উপর ভরসা করুন–নিশ্চয়, আল্লহ তায়া’লা তাওয়াক্কুলকারীদের ভালবাসেন। (সুরা আল ইমরনঃ ১৫৯)
যদি তোমরা আল্লহর রসূলের সাহায্য না কর তবে আল্লহ তায়া’লা (ই তাঁহার সাহায্য করিবেন যেমন তিনি) তাঁহার সাহায্য করিয়াছিলেন সে সময় যখন কাফেররা তাঁহাকে দেশান্তর করিয়া দিয়াছিল–দুইজনের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি, সে সময় উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, যখন তিনি স্বীয় সঙ্গী (হযরত আবু বকর রদিয়াল্লহু আ’নহু)কে বলিতেছিলেন তুমি বিষন্ন হইও না, নিশ্চয় আল্লহ তায়া’লা(র সাহায্য) আমাদের সঙ্গে রহিয়াছে, অতঃপর আল্লহ তায়া’লা তাঁহার প্রতি স্বীয় সান্ত্বনা নাযিল করিলেন এবং তাঁহাকে শক্তিশালী করিলেন এমন সেনাদল দ্বারা যাহাদিগকে তোমরা দেখিতে পাওনাই এবং আল্লহ তায়া’লা কাফেরদের কথা (অর্থাৎ প্রচেষ্টা)কে নিচু করিয়া দিলেন, আর আল্লহ তায়া’লার কালেমাই সমুন্নত রহিল, আর আল্লহ তায়া’লা প্রবল, প্রজ্ঞাময় (সূরা তওবাহঃ ৪০)
হায়াতুস সাহাবাহ ১ম খন্ড (দারুল কিতাব, ডিসেম্বর ১৯৯৯) পৃষ্ঠা ২০-২৩
নবী করীম সল্লাল্লহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবাহ কেরাম রদিয়াল্লহু আ’নহুম দের সম্পর্কে কুরআনের কতিপয় আয়াত-৩
মুহা’ম্মাদ আল্লহর রসূল এবং তাহার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোরতর, নিজেদের মধ্যে পরস্পর সহানুভুতিশীল। আল্লহর আনুগ্রহ ও সন্তুষ্ট কামনায় আপনি তাহাদিগকে রুকু ও সিজদারত দেখিবেন। তাহাদের মুখমন্ডলে রহিয়াছে সিজদার চিহ্ন। তাওরাতে তাহাদের অবস্থা এরূপ এবং ইঞ্জিলে আহাদের অবস্থা এরূপ, যেমন শস্য–সে প্রথমে (স্বীয়) অংকুর বাহির করিল, অতঃপর (জমি হইতে খাদ্য আহরণ করিয়া) উহাকে শক্তিশালী করিল এবং শক্ত ও মজবুত হইল এবং উহা নিজের কান্ডের উপরে দাড়াঁইয়া গেল, ফলে উহা কৃষককে আনন্দ দিতে লাগিল–যেন তাহাদের (এই উন্নতির) দ্বারা কাফেরদের মনে অন্তরজ্বালা সৃষ্টি করিয়া দেন। তাহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং নেককাজ করিতেছে আল্লহ তাহাদিগকে ক্ষমা ও মহাপুরষ্কারের ওয়াদা দিয়া রাখিয়াছেন। (সূরা ফাতহঃ ২৯)
যাহারা অনুসরণ করে এমন রসূলের যিনি নবীয়ে-উম্মী, যাঁহাকে তাহারা লিখিত পায় নিজেদের নিকট তাওরাতে ও ইঞ্জিলে। তিনি তাহাদিগকে সৎকাজের আদেশ করেন এবং মন্দকাজ হইতে নিষেধ করেন, আর পবিত্র বস্তুগুলিকে তাহাদের জন্য হালাল বলেন এবং অপবিত্র বস্তুগুলিকে তাহাদের উপর হারাম করিয়াদেন এবং তাহাদের উপর যে গুরুভার ও বেড়ী ছিল উহা বিদুরিত করেন, অতএব যাহারা এই নবীর প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁহার সহযোগিতা ও তাঁহার সাহায্য করে এবং সেই নূর (কুরআন) এর অনুসুওরণ করে যাহা প্রেরিত হইয়াছে তাঁহার সহিত, এইরূপ লোকই পূর্ণ সফলকাম। (সূরা আ’রাফঃ ১৫৭)
হায়াতুস সাহাবাহ ১ম খন্ড (দারুল কিতাব, ডিসেম্বর ১৯৯৯) পৃষ্ঠা ২৩-২৪
0 মন্তব্যসমূহ