লেখক : আল্লামা আবেদ নিজামি
আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর বংশের সিলসিলা প্রায় ষাটতম স্তরে গিয়ে হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) এর সাথে মিলে। হুযুর (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর সম্মানিত পিতার নাম ছিল 'আবদুল্লাহ' , যিনি জনাব আবদুল মুতালিবের পুত্র ছিলেন।
তাঁর বংশের নাম ছিল কুরাইশ, যেটা আরবের সমস্ত বংশসমূহের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত ও মর্যাদাবান ছিল। এ বংশের অনেকেই স্বীয় নেকী ও আল্লাহর বন্দেগীর কারণে বড় সম্মানের পাত্র ছিলেন। যেমন নযর, ফিহর ও কুশাই বিন কিলাব প্রমুখ ৷
কুশাই আমাদের প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর ষষ্ঠ পর দাদা ছিলেন। ইনি কাবা শরীফের মুতাওয়াল্লী থাকাকালীন অনেক কল্যাণমূলক কাজ করে গেছেন, যার মধ্যে হাজীদের পানি পান করানো, মেজবানের ব্যবস্থা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তাছাড়া তিনি স্বীয় পুরা বংশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন এবং এর নাম রেখেছিলেন কুরাইশ৷ হুযুর (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) এর চতুর্থ পরদাদা ছিলেন আবদুল মুনাফ। তাঁর দুই জমজ সন্তান যুক্তভাবে জন্ম হয়েছিল, যাদেরকে তলোয়ার দ্বারা কেটে পৃথক করা হয়েছিল। তাদের একজনের নাম হাশেম এবং অন্য জনের নাম ‘উমাইয়া’ রাখা হয়েছিল। হুয়ূর (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহে ওয়া সাল্লাম) হাশেমের পৌপুত্রছিলেন।
হাশেমের পর জনাব আবদুল মুতালিব কাবা শরীফের মুতাওয়াল্লী হয়ে ছিলেন। তিনিও কাবা শরীফের থেদমত করে বড় সুনাম অর্জন করেছিলেন।
জনাব আবদুল মুতালিবকে আল্লাহ তাআলা দশটি পুত্র সন্তান দান করেছিলেন। যখন সবাই যুবক হয়ে গিয়েছিলেন, তখন ওদের নামে লটারী দিয়েছিলেন যাতে এক সন্তানকে আল্লাহর নামে কূরবানী করেন। লটারীতে হযরত আবদুল্লাহর নাম উঠেছিল। তাই জনাব আবদুল মুতালিব তাঁকে শোয়ালেন এবং ছুরি চালনার জন্য প্রস্তুতি নিলেন কিন্তু বংশের সমস্ত লোক দৌড়ে এসে বাঁধা দিলেন। শেষ পর্যন্ত হযরত আবদুল্লাহের পরিবর্তে আল্লাহর রাস্তায় একশটি উট কূরবানী করেন ৷
হযরত আবদুল্লাহ খুবই সুন্দর ছিলেন। সতের বছর বয়সে ওহাব বিন আবদুল মুনাফের মেয়ে হযরত আমেনার সাথে তাঁর বিবাহ হয়। হযরত আমেনা খুবই নেককার ও শান্তশিষ্টা মহিলা ছিলেন ৷
হযরত আবদুল্লাহ বিবাহের কয়েক মাস পর শামদেশে সফর উদ্দেশ্যে যাবার পথে মদীনার সন্নিকটে ইন্তেকাল করেন এবং সেই জায়গায় তাঁকে দাফন করা হয়।
0 মন্তব্যসমূহ