⊕ সবি নামক গ্রন্থে হযরত মােকাতেল (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, “ আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মউত ফেরেশতার জন্য সপ্তম বা চতুর্থ আকাশে সত্তর হাজার স্তম্ভের উপর একটি নূরের সিংহাসন সংস্থাপন করিয়াছেন। মালাকুল মউতের চারিখানা পাখা আছে এবং তাঁহার সমস্ত দেহে মানব-দানব, পশু-পাখী, কীট-পতঙ্গ ইত্যাদির সংখ্যানুপাতে জিহ্বা ও চক্ষু রহিয়াছে। অর্থাৎ এমন কোন প্রাণী নাই, যাহার নিমিত্ত তাহার শরীরে মুখ, হাত ও চক্ষু নাই। সেখান হইতেই তিনি তাহাদের রূহ কবজ করেন।” একদিন হযরত নবী করীম (সঃ) বলিলেন যে, মালাকুল মউতের উত্তরে, দক্ষিণে, সম্মুখে, পশ্চাতে, উপরে ও নীচে সর্বমােট ছয়খানা মুখমণ্ডল রহিয়াছে। তখন সাহাবাগণ আরজ করিলেন, “ হে আল্লাহর রাসূল! সেই ছয়খানা মুখের তাৎপর্য ও রহস্য কি?” 

◑ প্রত্যুত্তরে নবী করীম (সঃ) বলিলেন, “ মালাকুল মউত তাহার উত্তর মুখ দিয়া পশ্চিম দেশীয় প্রাণীদের রূহ কবজ করেন; আর দক্ষিণ মুখ দিয়া পূর্ব দেশীয় প্রাণীদের রূহ কবজ করেন। পশ্চাতের মুখ দিয়া পাপী ও দোযখীদের আত্মা কবজ করেন। আর সম্মুখের মুখ দিয়া আমার মুমিন উম্মতদের রূহ্ কবজ করেন। তিনি মস্তকোপরি মুখ

দিয়া আকাশমণ্ডলের অধিবাসীদের রূহ কবজ করেন এবং পদতলের মুখ দিয়া জ্বিন ও দানবদের আত্মা ছিনাইয়া আনেন।” 

◑ হযরত রাসূল করীম (সঃ) আরও বলিয়াছেন যে, “মালাকুল মউত হাতের দ্বারা প্রাণীর রূহ কবজ করেন এবং চক্ষু দ্বারা তিনি প্রাণীর প্রতি দৃষ্টিপাত করেন।” এমনিভাবে সর্ব স্থানের সৃষ্টজীবের আত্মা কবজ করা হইয়া থাকে। যখন পৃথিবীর বুকে কেহ মৃত্যুবরণ করে, তখনই মালাকুল মউতের দেহস্থিত একটি চক্ষু বিলীন হইয়া যায়।

◑ অন্য এক হাদীসে বর্ণিত আছে যে, মালাকুল মউত মাত্র চারিটি মুখমণ্ডলের অধিকারী। তিনি মস্তকোপরী মুখমণ্ডলের দ্বারা নবী ও ফেরেশতাদের আত্মা কবজ করেন। আর সম্মুখস্থ মুখমন্ডলের দ্বারা মুমিন বান্দাদের রূহ্ কবজ করেন। পশ্চাদমুখী মুখমণ্ডলের হইতে তাহার নাম অঙ্কিত একটি পাতা মালাকুল মউতের সম্মুখে ঝরিয়া পড়ে এবং তখনই তিনি সেই ব্যক্তির রূহ কবজ করেন। 

◑ হযরত কা'ব ইবনে আহ্বার (রাঃ) হইতে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ পাক আরশের নিম্নভাগে একটি সুবৃহৎ বৃক্ষ পয়দা করিয়াছেন। উক্ত বৃক্ষে যাবতীয় জীবের সংখ্যানুপাতে পাতা রহিয়াছে। কাহারও মৃত্যুর চল্লিশ দিন পূর্বেই তাহার নামাঙ্কিত পাতাটি হযরত আজরাইল (আঃ) এর বক্ষের উপর ঝরিয়া পড়ে। তখন তিনি তাঁহার সহকর্মীদিগকে উক্ত ব্যক্তির রূহ্ কবজ করিতে নির্দেশ করেন। এরূপভাবে চল্লিশ দিন পূর্বেই উক্ত ব্যক্তি আকাশমণ্ডলে মৃত বলিয়া ঘােষিত হয়।

◑ হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে যে, হযরত মিকাইল (আঃ) আল্লাহ তায়ালার নিকট হইতে একখানি সহিফা বা লিখিত পত্র লইয়া হযরত জরাইল (আঃ) এর নিকট উপস্থিত হন। উহাতে মৃত ব্যক্তির নাম-ধাম, তাহার মৃত্যুর স্থান ও মৃত্যুর কারণ ইত্যাদি লিপিবদ্ধ থাকে।

◑ আর হযরত আবু লাইস্ সমরকন্দি বর্ণনা করিয়াছেন যে, কাহারও মৃত্যুর সময় ঘনাইয়া আসিলে আরশে মােয়াল্লার নিম্নস্থান হইতে সবুজ বা সাদা রংয়ের একবিন্দু পানি তাহার নামের উপর টপকাইয়া পড়ে। সেই পানিবিন্দু সবুজ হইলে উক্ত ব্যক্তি বখত বলিয়া বিবেচিত হয় এবং পানিবিন্দু সাদা হইলে সে নেকবখত হিসাবে বিবেচিত হয়, আর অত্যন্ত আসানীর সহিত তাহার রূহ কবজ করা হয়।