হযরত আনাস (রা.) বলেন, ইয়ামামার যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানদের (প্রথম দিকে) পরাজয় হইল তখন আমি দেখিলাম হযরত সাবেত ইবনে কায়েস (রা.) খুশবু লাগাইয়া যুদ্ধের ময়দানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হইতেছেন।
আমি তাহাকে বলিলাম, চাচাজান, আপনি কি দেখিতেছেন না (যে, মুসলমানরা পরাজিত হইয়া পলায়ন করিতেছে?) তিনি বলিলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে থাকা অবস্থায় এরুপে যুদ্ধ করি নাই। তোমরা বারবার পরাজয় বরণ করিয়া দুশমনদেরকে খারাপ অভ্যাসে অভ্যস্ত করিয়া দিয়াছ। আয় আল্লাহ! এই সকল মোরতাদরা যে ফেৎনা সৃষ্টি করিয়াছে এবং এই সমস্ত মুসলমানগণ (পরাজয়বরণ করিয়া পলায়ন করত) যাহা করিয়াছে উহা হইতে আমি পবিত্র।
তারপর তিনি কাফেরদের সহিত যুদ্ধ আরম্ভ কয়িা দিলেন এবং শাহাদাত বরণ করিলেন। অত:পর হাদীসের আরো অংশ বর্ণিত হইয়াছে। ফাতহুল বারী গ্রন্থে আছে যে, ইয়ামামার যুদ্ধের দিন যখন মুসলমানদের পরাজয় হইল তখন হযরত সাবেত ইবনে কায়েস (রা.) বলিলেন, আমি এই সকল মোরতাদদের প্রতি ও তাহারা যে জিনিসের এবাদত করে উহার প্রতি অসন্তুষ্ট। আর মুসলমানগণ (পরাজিত হইয়া পলায়ন করত) যাহা করিতেছে আমি উহার প্রতিও অসন্তুষ্ট। এক ব্যক্তি বাগানের দেয়ালের ফাঁকে দাঁড়াইয়াছিল তিনি তাহাকে কতল করিলেন তারপর নিজেও শহীদ হইয়া গেলেন। (তাবারনী)
হায়াতুস সাহাবাহ ২য় খন্ড
হযরত আবু হোযাইফা (রা.) এর গোলাম হযরত সালেম (রা.) আসিয়া ঝাণ্ডা উঠাইয়া লইলেন। মুসলমানগণ বলিলেন, হে সালেম, আমরা তোমার দিক হইতে কাফেরদের আক্রমনের আশংকা করিতেছি। হযরত সালেম (রা.) বলিলেন, যদি আমার দিক হইতে কাফেররা তোমাদের উপর আক্রমন করিতে সফল হয় তবে আমি কোরআনের অত্যন্ত খারাপ বাহক। (অর্থাৎ আমার দিক হইতে কাফেরদের সমস্ত আক্রমন আমি প্রতিহত করিব।) হযরত যায়েদ ইবনে খাত্তাব (রা.) হিজরী বার সনে (এই যুদ্ধে) শাহাদাত বরণ করিলেন।
(হায়াতুস সাহাবাহ ২য় খন্ড)
0 মন্তব্যসমূহ