সেলজুক সাম্রাজ্যের ইতিহাস।সেলজুকদের ইতিহাস। সেলযুক রাজত্বের ইতিহাস -ধারাবাহিক পর্ব -৩




এভাবে দু'ভাইয়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য বহাল থাকে এবং বিশালায়তনের এই সাম্রাজ্যে দুটি রাজধানী হওয়াতে প্রশাসনিক অবকাঠামােতে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়।
সেলজুকিরা তদানীন্তন খেলাফতে আব্বাসিয়ার খলীফাকে কোন ধরনের উত্ত্যক্ত
করে উল্লেখযােগ্য কয়েকটি এলাকা তাদের খেলাফতের সীমানাভুক্ত রাখে। এতে সেলজুকি ও আব্বাসীয় খলীফাদের মধ্যে চমৎকার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। ৪৫০ হিজরীর কথা। তখন খলীফা ছিলেন কায়েম বিআমরিল্লাহ। বাসসীরী নামক এক
অমুসলিম শাসক একদিন খলীফাকে দুর্বল ও অসহায় মনে করে বাগদাদে হামলা করে
বসলাে এবং খলীফাকে কয়েদখানার অন্ধকার কুঠুরীতে নিক্ষেপ করলাে।
তুঘরল বেগ এটা জানতে পেরে বাসাসীরীর উপর পাল্টা হামলা চালালেন।
বাসাসীরীকে শশাচনীয়রূপে পরাজিত করে তাকে গ্রেফতার করলেন এবং খলীফাকে
কারাগার থেকে মুক্ত করলেন। তারপর তুঘরল বেগ বাসাসীরীকে হত্যা করে তার
খণ্ডিত মস্তক খলীফার পায়ে এনে নজরানা স্বরূপ পেশ করলেন।
‘ তুঘল! তুমি কি চার বছর অপেক্ষা করতে পারবে? '-খলীফা কায়েম
বিআমরিল্লাহ তুঘরলের প্রতি মুগ্ধ হয়ে বললেন।
‘ কিসের অপেক্ষা?
“ তুমি আমার জন্য যা করেছাে আমি এর প্রতিদান দিতে চাই।
‘ খলীফায়ে মুহতারাম। প্রথম কথা হলাে আমি আপনার জন্য অতিরিক্ত
করিনি। শুধু আমার কর্তব্যটুকু করেছি। দ্বিতীয় কথা হলাে চার বছর অপেক্ষার কথাটা
বুঝতে পারছি না- তুঘল অতি বিনয় কণ্ঠে বললেন।
‘ আমার একটি মেয়ে আছে। এখনাে খুব কাঁচা বয়সের রয়ে গেছে। বার তের,
বহুর হবে হয়তাে। চার বছর পর আশা করি সে তােমার উপযুক্ত হয়ে উঠবে। তখন
তাকে তােমার সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ করবে। এটা এমন এক তােহফা যা আমি
অনাব্বাসীয় গােত্রের বাইরে কাউকে দিতে পারি না। আমরা আমাদের মেয়েদের
আব্বাসীয় বংশেই সােপর্দ করে থাকি। তুমি সেলজুকি। কিন্তু তুমি আমার প্রতি যে
অনির্বচনীয় অনুগ্রহ করেছে এর বিনিময় আমি এর চেয়ে কম দিতে পারবাে না। আমি
আমার মেয়েকে তােমার আত্মার কাছে সমর্পণ করলাম। চার বছর পর এত বিয়ের
মাধ্যমে এর স্বীকৃতি সাব্যস্ত হবে। অনুরােধ আমার তুমি না ’ করােনা'- কথাগুলাে
বলে খলীফা বেশ আরাম বােধ করলেন।
চার বছর পর অনাড়ম্বর এক আয়ােজনের মাধ্যমে তুঘল বেগের সঙ্গে খলীফার
কন্যার শুভ বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়।
রাজা-বাদশারা নিছক প্রথা পালনের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী এবং কয়েকজন
সাধারণ মন্ত্রী তাদের রাজদরবারে রাখতেন। হুকুম তাে চলতাে স্বয়ং রাজাদেরই। আর
মন্ত্রীরা তা সমর্থন করতে বা তোষামােদের ভূমিকা নিয়ে রাজাকে তুষ্ট করতে চেষ্টা
করতাে। যারা রাজার পরামর্শ ও উপদেষ্টা পরিষদে থাকতাে তারা দু'চার কথা বলে----


লেখক-এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ


0 মন্তব্যসমূহ