রাজার চাটুকারিতা করতে পারলেই বর্তে যেতাে। রাজা যদি প্রথামতে কোন কাজে বা কোন সংকটে তাদের পরামর্শ তলব করতেন তাহলে তারা রাজার মর্জির খেলাফ কোন পরামর্শ দিতাে না। সেলজুকিদের মধ্যে এসব প্রথার কোন অস্তিত্বই ছিলাে না। সেলজুক শাসকদের কাছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার যথেষ্ট কদর ছিলাে। প্রচলিত রাজকীয় বর্ণাঢ্য সাজে তাদের কোন রাজদরবার ছিলাে না। এজন্য তারা চাটুকার দরবারীদের প্রয়ােজনীয়তা অনুভব করতাে না। যে কোন বিষয়ের ফয়সালা হতাে অনেক বচসার পর। তাদের সফলতার কারণ ছিলাে এটাই।


তুঘরুল বেগ ও চেগরা বেগ এক দেশেরই দুই রাজধানীর দুই সুলতান ছিলেন। চেগরা বেগ ছিলেন মারুতে। একদিন এক সদ্য যুবক তার সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে এলাে। তার পােষাক বলে দিচ্ছিলাে সে কোন সাধারণ প্রার্থী নয়। তার চোখে মুখে সম্রান্ত বংশের ঔজ্জ্বল্য ঝিলিক দিচ্ছিলাে।‘ আপনি কে-একথা জিজ্ঞেস করলে সুলতানকে কি বলবাে? আর আপনার সাক্ষাতের উদ্দেশ্যই বা কি? '-সুলতানের মহলের দারােয়ান তাকে জিজ্ঞেস।করলাে।‘ আমার নাম খাজা হাসান তুসী। নিশাপুর থেকে এসেছি। আমি নিশাপুরের ইমাম মুওয়াফিকের ছাত্র। তার বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই বেরিয়েছি। ফকীহ ও মুহাদ্দিস স্তর পর্যন্ত পড়েছি। সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সুলতানকে বলবাে ’-সাক্ষাৎপ্রার্থী বললাে দারােয়ানদের নির্দেশ দেয়া ছিলাে, দেশের কোন আলেম বা শিক্ষিত নাগরিক সুলতানের সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে এলে তাকে যেন সাদরে গ্রহণ করা হয়। দারােয়ান তাই সুলতান চেগরা বেগকে গিয়ে জানালাে।‘ অকে কি ফকীহ বা মুহাদ্দিস বলে মনে হয়?-সুলতান জিজ্ঞেস করলেন।‘ হ সুলতানে মুহতারাম! পরিমিতভাষী এবং আলেমদের পােষাকে সজ্জিত।চেহারাও বেশ অভিজাত।“ তাহলে তাকে এতক্ষণ বাইরে দাড় করিয়ে রাখা তাে অভদ্রতা। এখনই তাকে পাঠিয়ে দাও। 'কিছুক্ষণ পর সুলতানের সামনে যে লােকটি সালাম দিয়ে দাড়ালাে তার নাম খাজা হাসান তুসী। সুলতান তাকে সসম্মানে বসালেন।

হে যুবক! আমি কি করে মেনে নেবাে তুমি ইমাম মুওয়াফিকের ছাত্র? আমি জানি ইমাম মুওয়াফিকের ছাত্র হওয়াটা কত বড় সম্মানের ’-সুলতান বললেন।

‘ আমার কাছে তার সনদ আছে ’-হাসান তুসী কয়েকটি কাগজ সুলতানের হাতে দিয়ে বললেন আমি ফেকাহ ও হাদীস শাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়েও তার কাছে থেকে গবেষণা করেছি।'‘ তাহলে কি তােমার লেখাপড়ার পাঠ শেষ? সুলতানে আলী মাকাম। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি থেকে বের হয়েছি, শিক্ষার গণ্ডি থেকে এখনাে বের হইনি। জ্ঞানের তুলনা তাে সমুদ্রের অগাধ জলরাশির মতাে।


লেখক :  এনায়েতুল্লা আলতামাশ