আর একঘেয়েমি আওয়াজও আসছিলাে অনবরত। হঠাৎ তার কানে পলায়নপর পায়ের আওয়াজ এলাে। ভয়ে সে এদিক ওদিক তাকালাে। একটি বিড়াল তীব্র বেগে দৌড়ে আসছিলাে। বিড়ালটিকে ধাওয়া করে আসছিলাে দুটি নেকড়ে। নেকড়ে দুটি তার পাশ দিয়ে চলে গেলাে এবং সামনে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলাে ভয় পেলেও মন শক্ত করে সে তার কাজ চালিয়ে গেলাে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কবরগুলাে দেখতে লাগলাে, ধসে যাওয়া কোন কবর তা চোখে পড়ছিলাে না। কিছু দূর গিয়ে কবরের মতাে লম্বাটে ভােলা একটি গর্ত চোখে পড়লাে তার। এর চারপাশে
নানান সাইজের কবর ছিলাে। গর্তের পাশে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাে সে। তার কানে কুকুরের মতাে গরগর আওয়াজ এলাে। তারপর এক লাফে কবর থেকে দুটি জন্তু বেরিয়ে এলাে। এবার সে চিনলাে এ দুটি নেকড়ে সঙ্গে সঙ্গে সে তলােয়ার কোষমুক্ত করে দেহের সব শক্তি দিয়ে ঘুরাতে লাগলাে নেকড়েগুলাে দিক বদল করে করে চারদিক থেকে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চেষ্টা করছিলাে। বিদ্যুৎবেগে ঘূর্ণনরত তলােয়ার নেকড়ে দুটিকে কাছে ঘেষতে দিলেন।
তলােয়ার ঘুরাতে ঘুরাতে একবার সে পিছুতে পিছুতে গর্তের একেবারে কিনারায় গিয়ে পৌছলাে। পেছনে ফিরে থাকার কারণে সে টের পেলাে না। নেকড়ের নাগাল থেকে বাঁচার জন্য পিছাতে পিছাতে সে সােজা গর্তের মধ্যে গিয়ে পড়লাে। তার এক পা হাঁটু পর্যন্ত মাটিতে দেবে গেলাে। তার চোখে পড়লাে ছিন্নভিন্ন এক বিড়াল দেহ। এবার বুঝতে পারলাে এটা সেই বিড়াল যাকে ধাওয়া করে নেকড়েগুলাে দৌড়াচ্ছিলাে বিড়ালটি সম্ভবত এই কবরে পড়ে গিয়েছিলাে বা লুকানাের জন্য এখানে নেমেছিলো। নেকড়েরা এখানেই তাকে পাকড়াও করে। হাসান যখন সেখানে পৌছে নেকড়ে দুটি বিড়াল খাচ্ছিলাে। নেকড়েগুলো ভাবলাে এই লােক তাদের শিকার ছিনিয়ে নিতে এসেছে। একজন মানুষের এত বড় দুঃসাহস এ যেন তাদের বিশ্বাস হচ্ছিলাে না। এজন্য কিছুক্ষণ আশ্চর্য
চোখে হাসানের দিকে তাকিয়ে রইলাে। হাসান সঙ্গে সঙ্গেই বিড়ালের পা ধরে বাইরে ছুঁড়ে নেকড়েগুলাে দিলাে। আর গরগর এক করতে মুহূর্ত করতে দেরী হলে শিকার নেকড়ের নিয়ে হাতে চলে হাসানই গেলাে। ছিন্নম্নি কিন্তু ভয়ের হয়ে যেতাে নখদন্ত। হাসানকে চারদিক থেকে এমনভাবে চেপে ধরলাে যে, তার সমস্ত দেহ কাঁপতে লাগলাে থর থর করে। একবার চিন্তা করলাে কোনরকম উঠে ঝেড়ে দৌড় দেবে কি-না। কিন্তু তার শুরুর ভয়ে পালানাের ইচ্ছা চেপে রাখলাে অতি কষ্টে আল্লাহর কবর এত সম্পর্কে প্রিয় বান্দা সে আগে হয় যে ভীতিপ্রদ, তারা অনেক মারা গেলে কাহিনী তাদের শুনেছিলাে কবরকে। অনেকে কেউ অসম্মান নাকি করলে সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর আযাব নেমে আসে। এটা মনে আসতেই ভয় আরাে
কয়েকগুণ তার কোন পড়ে মূল্যেই যাওয়া বেড়ে হােক গেলাে পাটি উদ্ধার টেনে তার করে বের। কিন্তু আনতে করলাে ইবনে হবে। আতাশ এটা এবং আসলে তাকে ভয়কে একটা বলেছিলাে দমিয়ে পুরনাে রাখতে নির্দেশিত কবর হবে ছিলাে। হাড় হাসান। যে সে দেখলাে কবরের একটি চিহ্ন-পাথর নিচে পড়ে আছে। দু’হাতে মাটি উঠিয়ে বাইরে ফেলে ফেলে পাথরটি আলাদা করে রাখলাে। চাঁদের আলােয় মৃতের কঙ্কাল
স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিলাে। হাসান কঙ্কাল থেকে মাথার খুপড়ি ও দু’বাহু থেকে দুটি হাড় খসিয়ে নিলাে। তখনই সব অন্ধকার হয়ে এলাে। চাঁদের আলাে অদৃশ্য হয়ে গেছে তার ওপর থেকে ভেসে গেলাে একটি কালাে ছায়া। ঘাবড়ে গিয়ে সে ওপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাে কালাে মেঘের পাহাড় এগিয়ে আসছে এবং নিকষ আঁধারের গর্ভে রাত হারিয়ে যাচ্ছে। হাসান খুপড়ি ও হাড়গুলাে শক্ত করে ধরে তীব্র বেগে কবর থেকে বেরিয়ে এলাে। হঠাৎ বিকট আওয়াজে বিদ্যুৎ চমকালাে। কয়েক সেকেন্ড পর আবারাে এত জোরে বজ্রপাত হলাে যে, হাসানের মতাে দুঃসাহসী যুবকও অসাড়ের মতাে হয়ে গেলাে। সবকিছু ছাপিয়ে তার কানে পৌছলাে তার হৃদকম্পনের ঠক ঠক আওয়াজ।
সে এলাকায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি আসা অস্বাভাবিক কোন ঘটনা ছিলাে না। কিন্তু হাসানের মনের ঘােড়ায় এই ভয় সওয়ার হয়ে গেলাে যে, এটা নিশ্চয় কোন বুযুর্গ পুরুষের কবর। যাকে অসম্মান করায় আকাশ থেকে বজ্রপাত আরম্ভ হয়েছে। তারপর আবার সেই কথা মনে হলাে, এই খুপড়ি ও হাড় করে নিয়ে রেখে আসি।
কিন্তু এবারেও এক ঝটকায় মনে এলাে তার গুরুর কথা- যদি ভয় পেয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে এসাে তাহলে তােমার এই সাধনা শেষ হতে যে কত বছর লাগবে তার কোন হিসাব নেই। বড় কষ্টে সে মনকে বশে আনলাে আচমকা মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলাে। শিলা পাথরের মতাে বৃষ্টির ফোটাগুলাে শরীরে বিধতে লাগলাে। সে দৌড় লাগালাে। এক জায়গায় গিয়ে সামনে তাকাতেই দৈখলাে, তিন চার পা দূরে এক কালাে মূর্তি দাঁড়িয়ে আছে। মূর্তিটির অবয়ব স্পষ্ট বুঝা
যাচ্ছিলাে না। মনে হচ্ছিলাে কুয়াশার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসেছে বিরাটকায় এক মূর্তি। তার পাগুলাে সাধারণ মানুষের পায়ের চেয়ে কয়েকগুণ লম্বা মনে হচ্ছিলাে। তার দু ' কাঁধ থেকে নেমে যাওয়া হাত দুটি দুই দিকে ছড়িয়ে রেখেছিলাে। যেন সামনে গেলেই হাসানকে বাধা দেবে। ছায়ামূৰ্তি মাথাটি গােল নয় অদ্ভুত লম্বাটে ছিলাে। নীরব আগ্রাসী পাহাড়ের মতাে সে দাড়িয়ে ছিলাে হাসানের পা দুটি নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে গেলাে। ভয়ের কাটা তাকে এমন করে খামচে ধরলাে যেন একটি রােমশ শক্ত হাত তার বুকের শেষ বিন্দু রক্তও নিংড়ে নিতে আচড় বসাচ্ছে। সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাে, খুপড়ি ও হাড়গুলাে এই অশরীরী দানবের
পায়ে রেখে দেবে। বারবার বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিলাে। সমস্ত অশরীরির আর্তনাদ হয়ে মুহুর্মুহু বজপাত চরচির কাঁপিয়ে তুলছিলাে। বিদ্যুৎ চমক হাসানের চোখের দৃষ্টি প্রায় কেড়ে নিচ্ছিলাে। বৃষ্টি ক্রমেই বেড়ে চলছিলাে। মনে হচ্ছিলাে বিশালকায় মূর্তিটি তার ডান ও বাম দিকে ছড়ানাে হাতদুটি নড়াচ্ছিলাে। আরেকবার মনে হলাে অশরীরিটি বুঝি সামনে
এগিয়ে আসছে হঠাৎ হাসানের পৌরুষ জেগে উঠলাে। হয়তাে এটা তার মৃত্যু থেকে বাঁচার শেষ
চেষ্টা ছিলাে। সামনে অগ্রসর হয়ে এক ঝটকায় তলােয়ার বের করে বিদ্যুৎবেগে মূর্তিটির পেট বরাবর তলােয়ার চালালাে। সে নিশ্চিত ছিলাে, যে শক্তিতে সে তলােয়ার চালিয়েছে-তা এর পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বের হয়ে যাবে। কিন্তু তলােয়ারের ফলও তার পেটে ঢুকলাে না। হাসান বিদ্যুৎবেগে তলােয়ার টেনে নিয়ে আরাে দ্বিগুণ বেগে এবার তলোয়ার চালালাে। কিন্তু তার হাত যেন শক্ত কিছুর সঙ্গে ঠুকে গেলাে
এবং তলােয়ার পেছনে ফিরে এলাে। ছায়ামূর্তির হাতদুটি তেমনি ছড়িয়ে ছিলাে। হাসান মূর্তিটির দু'এক পা মাত্র দূরে ছিলাে। এবার যখন বিদ্যুৎ চমকালাে হাসান সামনে গিয়ে মূর্তিটিকে হাত দিয়ে স্পর্শ করলাে। তখনই বুঝতে পারলাে এটা শুকিয়ে যাওয়া এক মরা বৃক্ষ। আর এর দুটি ভাঙ্গা ডাল দুদিকে ছড়িয়ে আছে হাসান মৃতের খুপড়ি ও বাহুর হাড়গুলাে আরাে শক্ত করে ধরে উধ্বশ্বাসে ছুটতে লাগলাে কবরস্থান থেকে বের হতে হতে কয়েকবার হোঁচট খেলাে, আছড়ে পড়লাে পায়ের হাঁটুর কয়েক জায়গা চটে গেলাে। তবুও কোথাও থামলাে না। কবরস্থান থেকে যখন বেরিয়ে এলাে তখন তার ধড়ে প্রাণ ফিরে এলাে এবার সে ছােটা বন্ধ করে ধীরে ধীরে হাঁটতে লাগলাে। আবদূল মালিক ইবনে আতাশ তাকে বলে রেখেছিলাে রাত যতই হােক সে তার অপেক্ষায় থাকবে হাসান তার ঘরে গিয়ে দেখলাে ইবনে আতাশ জেগে বসে আছে। তার কাপড় থেকে পানি ঝরছিলাে। পা থেকে কোমর পর্যন্ত কাদায় মাখামাখি ছিলাে। কিছুটা হিম শীতল বৃষ্টির কারণে আর কিছুটা ভয়ে কাঁপছিলাে সে। সে অবস্থাতেই হাতের খুপড়ি ও
হাড় দুটো ইবনে আতাশের পায়ের কাছে নামিয়ে রাখলাে। ইবনে আতাশ তাকে পিঠ চাপড়ে সাবাশ সাবাশ বলে শুভেচ্ছা জানালাে, তার কাপড় পাল্টে দিলাে এবং জিজ্ঞেস করলাে সে খুব বেশি ভয় পেয়েছে কিনা? কি পরিমাণ ভয় যে পেয়েছি তা এখন বলতে পারবাে না ’-হাসান জবাব দিয়ে একটু ভেবে বললাে- গুরু! এটাও কি আমার প্রশিক্ষণের জন্য জরুরী? হ্যা, এতটুকু জরুরী, যতটুকু জরুরী দেহের জন্য পানি ও বাতাস'। এখন বলাে কবর থেকে এগুলাে কি করে বের করেছাে? তার ওপর দিয়ে কি ঝড় বয়ে গেছে হাসান সব বিস্তারিত শােনালাে।
গুরু ’!-ইবনে সবা বললাে- আজ রাতে আমি এটা সত্য বলে বিশ্বাস করেছি যে, আল্লাহর কোন বিশেষ বান্দার কবর ও তার দেহের সঙ্গে যদি কেউ এই ব্যবহার
করে যেমন আজ আমি করেছি তাহলে তৎক্ষণাৎ আযাব নাযিল হয়ে যায়’- ভয়ে ভয়ে সে জিজ্ঞেস করলাে- ‘ আমার ওপরও কি এমন আযাব গজব নাযিল হবে? ” না। যা হওয়ার তা হয়ে গেছে। একটা অতি গােপন কথা ছিলাে-দেমাগে গেঁথে নাও। কবরে যখন তুমি পড়ে গেলে তখন দুটি নেড়ে তােমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লাে। মৃতের হাড়ে হাত লাগালে বিদ্যুৎ চমকে বজ্রপাত শুরু হলাে। এ থেকে কি তুমি বুঝতে পারােনি মৃত মানুষের মধ্যেও অপার্থিব শক্তি আছে। তুমি কি কখনাে বদ আত্মার কথা শােননি? যে শাস্ত্র তােমাকে শিক্ষা দিয়েছি তা তােমার সঙ্গে অনেক
রকমের আত্মার সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেবে। এটা তােমাকে এ কথাও শিক্ষা দেবে যে, মৃতের শয়তানের বেহশত
আত্মায় অপ্রতিরােধ্য এক শক্তি ভর করে আসে। তা তােমার বশীকরণে চলে আসবে তুমি তােমার কাজে তা ব্যবহার করতে পারবে। কিন্তু এখন নয়। এ ক্ষমতা অর্জনের জন্য তােমাকে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হবে নিজের হাড়-গােড় শুকিয়ে যাবে এ পথে। তারপরই তুমি ভাসমান আত্মার শক্তি অর্জন করতে পারবে। জাহান্নামের আগুন অতিক্রম করে তােমাকে জান্নাতে প্রবেশ করতে হবে। '
ইবনে আতাশ তাকে সদ্য আনা খুপড়ি ও হাড় সম্পর্কে একটি সবক দিয়ে ঘরে পাঠিয়ে দিলাে শহরের কাছ ঘেঁষে একটি স্রোতস্বিনী নদীর ধারা বইছে। পরদিন সকালে হাসান নদীর ধারে বেড়াতে গেলাে। তার মাথায় সর্বক্ষণ গুরুর কথাগুলাে ঘুরছিলাে। গতরাতের ঝর বাদলার কারণে নদীতে বেশ স্রোত ছিলাে এবং প্রায় চারদিকই কাদায় থিক থিক করছিলাে। শহরের কোলাহল থেকে দূরে কোথাও বসে জাদুর পাঠ আত্মস্থ করার জন্যই এখানে আসা তার। বসার জন্য তাই কোন শুষ্ক জায়গা খুঁজতে থাকে। সামান্য দূরেই অনায়াসে বসা যায় এমন একটি পাথর নজরে পড়লাে। পশ্চিম দিগন্তে উষার জেগে উঠা সূর্যের দিকে মুখ করে বসে গেলাে। তারপর চোখ বন্ধ করে
জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাে। একটু পর সে ধীরে ধীরে চোখ খুললাে। তার সামনে নতুন সূর্যের নরম আলাের আস্তরণ থাকার কথা ছিলাে। কিন্তু সূর্যের নরম আলাে আর তার দৃষ্টিপথের মাঝখানে ঝুলছিলাে একটি রঙিন কাপড়। হাসান নিথর হয়ে গেলাে। ভয়ে ভয়ে অতি সাবধানে ওপরের দিকে চোখ উঠালাে। চোখে পড়লাে রূপ-লাবণ্যের আভাদীপ্ত একটি রমণীয়
চেহারা। এ ছিলাে এক সদ্য তরুণীর মুখ। তার ঠোটে যেন ঝুলছিলাে গােলাপের আধ ফোটা কলির স্মিত হাসি। মাত্র এক পা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাে এই হুর সদৃশ মেয়েটি হাসান তার স্মৃতির দরজায় চাপ দিলাে- এই মুখ কোথাও দেখেছে কিনা এর আগে কোথায় দেখেছে। তার এও মনে এলাে এটা জাদুর তেলেসমাতি হতে পারে। চেনার চেষ্টা করছাে?' – আওয়াজ নয়-গানের তরঙ্গ যেন হাসান মাথা দোলালাে। হ্যা সে চেনার চেষ্টা করছে।এত সময় তােমার সামনে বিবস্ত্র হয়ে বসে ছিলাম ’-মেয়েটি হেসে বললাে উহ হু ’-হাসানের মনে পড়লাে- “ তুমিই ...আচ্ছা! সত্যি কথা বলােততা ... তুমি
কি বাস্তবে আছাে না আমার গুরুর তৈরী করা কল্পনা, যাকে বাস্তবের রূপ দিয়ে আমার মস্তিকে তিনি ঢুকিয়ে দিয়েছেন?
লেখক : এনায়েতুল্লা আলতামাশ

0 মন্তব্যসমূহ