হযরত আবুল বাখতারী ও হযরত মাইসারা (রা.) বলেন, সিফফীনের যুদ্ধের দিন হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) যুদ্ধ করিতেছিলেন, কিন্তু শহীদ হইতেছিলেন না। তিনি হযরত আলী (রা.) এর খেদমতে হাজির হইয়া বলিতেন, হে আমীরুল মুমিনীন, আজ অমুক দিন। (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে যেদিন শহীদ হইবেন বলিয়া সুসংবাদ দিয়াছিলেন আজ সেই দিন।) হযরত আলী (রা.) বলিতেন, আরে সেই কথা তোমার মন হইতে দূর করিয়া দাও। এইভাবে তিনবার হইল। অত:পর তাহার নিকট দুধ আনা হইলে তিনি উহা পান করিয়া বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছিলেন, আমি দুনিয়া হইতে বিদায়ের সময় সর্বশেষ যাহা পান করিব তাহা দুধ হইবে। তারপর উঠিয়া যুদ্ধে লিপ্ত হইলেন এবং অবশেষে শাহাদাত বরণ করিলেন। (তাবারনী)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হযরত আবু সিনান দুআলী (রা.) বলেন, আমি হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) কে দেখিলাম তিনি নিজের গোলামের নিকট হইতে পান করার কোন জিনিস চাহিলেন। সে তাহার নিকট এক পেয়ালা দুধ আনিল। তিনি সেই দুধ পান করিলেন এবং তারপর বলিলেন, আল্লাহ ও তাহার রাসূল সত্য বলিয়াছেন, আজ আমি (শহীদ হইয়া) আমার প্রিয় দোস্তদের অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার জামাতের সহিত মিলিত হইব। অত:পর হাদীসের আরো অংশ বর্ণিত হইয়াছে। (তাবারানী)

হযরত ইবরাহীম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.) বলেন, আমি হযরত আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা.) কে যেদিন তিনি শহীদ হইয়াছেন- অর্থাৎ সিফফীনের যুদ্ধের দিন উচ্চস্বরে বলিতে শুনিয়াছি যে, আমি জব্বার অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার সহিত মিলিত হইব, ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরদেরকে বিবাহ করিব, আজ আমাদের দোস্তদের অর্থাৎ হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাহার সঙ্গীদের সহিত মিলিত হইব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলিয়াছেন, দুনিয়াতে তোমার সর্বশেষ খোরাক দুধের শরবত হইবে। (আমি উহা পান করিয়াছি, অতএব আমার বিদায়ের সময় আসিয়া গিয়াছে।) (তাবারানী)