⊕ হযরত আবু বকর (রা) - এর আযাদকৃত গােলাম বিলাল (রা) বনূ জুমাহ গােত্রের এক ব্যক্তির ক্রীতদাস ছিলেন। তিনি তাদেরই দাসীর গর্ভজাত দাস ছিলেন। তাঁর পিতার নাম রাবাহ এবং তার মাতার নাম ছিল হামামা। বিলাল (রা) ছিলেন একনিষ্ঠ মুসলিম এবং পবিত্র মনের অধিকারী। বন্ জুমাহ গােত্রের উমায়্যা ইবন ওহব ইবন হুযাফা ইবন জুমাহ দুপুরের তপ্ত রােদে তাঁকে মক্কার মরুভূমিতে টেনে নিয়ে চিৎ করে শুইয়ে দিত। এরপর সে একটি বড় পাথর আনার নির্দেশ দিত, যা তার বুকের ওপর রাখা হত। তারপর তাকে সে বলত, মুহাম্মদকে অস্বীকারকরে লাত ও উযযার পূজা কর, নতুবা তাের ওপর মৃত্যু পর্যন্ত এরূপ নির্যাতন চলতে থাকবে। কিন্তু সেই কঠিন অমানুষিক নির্যাতন ভােগরত অবস্থায়ও তিনি বলতে থাকেতেন: আহাদ, আহাদ অর্থাৎ আল্লাহ্ এক। ইবন ইসহাক বলেন: হিশাম ইবন উরওয়া তার পিতা থেকে শুনে আমাকে বলেছেন যে, বিলাল এভাবে নির্যাতন ভােগ করার সময় ওয়ারাকা ইবন নাওফল তার কাছ দিয়ে যেতেন এবং বিলাল (রা) -এর আহাদ, আহাদ শব্দ শুনে বলতেন: আল্লাহর কসম, হে বিলাল! তিনিই আহাদ, আহাদ। তারপর তিনি উমায়্যা ইবন খালাফ এবং জুমাহ গােত্রের সেই অত্যাচারী লােকদের, যারা তার উপর নির্যাতন চালাত তাদের কাছে গিয়ে বলতেন: আল্লাহর কসম! তােমরা যদি তাকে এভাবে হত্যা করে ফেল, তবে আমি তার কবরকে বরকতময় স্থানে পরিণত করব। এভাবে বিলাল (রা) -এর ওপর যখন নির্যাতন চলছিল, তখন একদিন আবু বকর সিদ্দীক (রা) ইবন আবু কুহাফা তাঁর কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন। আবু বকরের বাড়ি ছিল জুমাহ গােত্রের পাড়ার মধ্যেই। তিনি উমায়্যা ইবন খালাকে বললেন, এ অসহায় লােকটার ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় কর না? আর কতদিন এভাবে চলবে? সে বলল: তুমিই তাে তাকে নষ্ট করেছ। এখন যে অবস্থায় তাকে দেখতে পাচ্ছ, তা থেকে তুমিই তাকে উদ্ধার কর। আবু বকর (রা) বলল: আচ্ছা, আমি তা-ই করব। আমার কাছে তাঁর চাইতে একজন হৃষ্টপুষ্ট ও শক্তিশালী হাবশী দাস আছে, যে তােমারই ধর্মের অনুসারী। বিলালের বদলে আমি তাকে তােমাকে দিয়ে দেব। উমায়্যা বলল: ঠিক আছে। আমি রাযী। আবু বকর (রা) বললেন:“ সে এখন তােমার। ” এ বলে আবু বকর (রা) বিলাল (রা) -এর বদলে সেই গােলাম তাকে দিয়ে দিলেন এবং বিলাল (রা)-কে নিয়ে আযাদ করে দিলেন।

0 মন্তব্যসমূহ