লেখক: বিচারপতি মুফতি আল্লামা তাকি উসমানি
আহমদ বিন আল-মুকরি দশ খণ্ডের বিখ্যাত গ্রন্থ নাফহুত তিব মিন গুসনিল
উন্দুলুস আর-রাতিব রচনা করেন। এটি পরবর্তী সময়ে স্পেনের রাজনীতি,
জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও সভ্যতা বিষয়ে শ্রেষ্ঠ ইতিহাসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত
হয়েছে।
এই লােশাকেই মুসলমানদের শাসনকালে গ্রানাডা প্রদেশের সবচেয়ে উন্নত ও
প্রসিদ্ধ শহর মনে করা হতাে। এই শহরেই ইসলামি জ্ঞান ও সাহিত্যের অনেক
মহীরুহ জন্মগ্রহণ করেছেন। মুসলমানদের পতনকাল ঘনিয়ে আসার সময়ে
খ্রিস্টানদের সঙ্গে লড়াইয়ে কতাে প্রাণদান ও বীরত্বের কাহিনী যে এই শহরে
রচিত হয়েছে তার হিসেব পাওয়া যাবে না। ক্যাস্টিলার (Castilla) ক্যাথলিক
রাজা ফার্ডিন্যান্ড ৮৮৭ হিজরি সালে (১৪৮২ খ্রিস্টাব্দে লােশায় আক্রমণ করলে
শায়খ আলি আল-আত্তারের নেতৃত্বে মাত্র তিন হাজার স্বেচ্ছাসেবক মুজাহিদ
রাজা ফার্ডিন্যান্ডের মুখােমুখি হন এবং প্রতিরােধের অবিচল প্রাচীর নির্মাণ
করেন। নিবেদিত প্রাণ স্বেচ্ছাসেব মুজাহিদ বাহিনী ফার্ডিন্যান্ডের পঙ্গপালের
মতাে বিশাল সেনাবাহিনীকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তারা মাথার ঘাম ও
শরীরের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই শহরকে রক্ষা করেন। কিন্তু এই অভিযানের
মাত্র চার বছর পর রাজা ফার্ডিন্যান্ড আবার এই শহরে আক্রমণ করে। এই
আক্রমণে ফার্ডিন্যান্ডের সঙ্গে তীর ও তরবারির চেয়ে বেশি ছিলাে ধোকা ও
প্রতারণা এবং অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রের অস্ত্র। এর পরিণামে
গ্রানাডার আগেই লােশা মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়। এমনকি শহরটির
নাম জানার জন্যও আজ ইতিহাসের পাতা উল্টাতে হয়।
0 মন্তব্যসমূহ