✪ জনৈক মদ্যপায়ী সর্বদা বন্ধু-বান্ধব লইয়া মদের আসরে পড়িয়া থাকিত। এক দিন সে মদ পানের পূর্বে আহারের জন্য কিছু ফল ক্রয় করিয়া আনিতে নিজের গােলামকে চার দেরহাম দিয়া বাজারে পাঠাইল। গােলাম বাজারে যাওয়ার পথে দেখিতে পাইল, বসরার প্রসিদ্ধ বুজুর্গ হযরত মনসুর বিন আম্মারের নিকট এক ফকীর ভিক্ষা প্রার্থনা করিতেছে। জবাবে তিনি বলিতেছেন, যেই ব্যক্তি এই ফকীরকে চার দেরহাম দান করিবে আমি তাহার জন্য চারিটি দোয়া করিব। গােলাম হযরত মনসুরের এই কথায় প্রভাবিত হইয়া ফকীরকে ঐ চার দেরহাম দান করিয়া দিল। হযরত মনসুর এইবার গােলামকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি কি দোয়া চাও বল। গােলাম অত্যন্ত বিনয়ের সহিত আরজ করিল :

☆ আমার মনিব যেন আমাকে মুক্ত করিয়া দেন।

☆ আমি যেন এই দেরহামগুলির প্রতিদান পাই।

☆ আল্লাহ পাক যেন আমাকে এবং আমার মনিবকে তওবা করার তওফীক দান করেন।

☆ আল্লাহ পাক যেন আমাকে, আমার মনিবকে, আপনাকে এবং এই কওমকে মাফ করিয়া দেন।

◑ গােলামের উপরােক্ত আরজির প্রেক্ষিতে হযরত মনসুর বিন আম্মার দোয়া করিলেন, যেন গােলামের সমস্ত মকসুদ পূরণ হয়। দোয়া শেষ হওয়ার পর গােলাম খালি হাতে বাড়ী ফিরিয়া গেল।

◑ মনিব তাহাকে বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করিলে সে পথে ফকীরের ভিক্ষা প্রার্থনা এবং হযরত মনসুরের দোয়া ইত্যাদি সমস্ত ঘটনা খুলিয়া বলিল। মনিব জিজ্ঞাসা করিলেন, তুমি হযরত মনসুরের দ্বারা কি কি দোয়া করাইয়াছ?

◑জবাবে গােলাম বলিল, আমার প্রথম দোয়া ছিল- আপনি যেন আমাকে আজাদ করিয়া দেন। মনিব সঙ্গে সঙ্গে বলিলেন, আমি এই মুহূর্তে তােমাকে আজাদ করিয়া দিলাম।

◑তােমার দ্বিতীয় দোয়ার কথা বল। গােলাম কহিল, আমার দ্বিতীয় দোয়া ছিল- আমি যেন ঐ চার দেরহামের প্রতিদান পাই। মনিব বলিলেন, ঐ চার দেরহাম আমার পক্ষ হইতে তােমাকে হাদিয়া।

◑ তােমার তৃতীয় দোয়া কি ছিল বল? গােলাম বলিল, আমার তৃতীয় দোয়া ছিল- আল্লাহ পাক যেন আমাকে এবং আপনাকে তওবা করিবার তাওফীক দান করেন। মনিব সঙ্গে সঙ্গে যাবতীয় পাপ হইতে তওবা করিয়া ফেলিলেন।

◑ সবশেষে গােলাম তাহার চতুর্থ দোয়ার কথা উল্লেখ করিয়া কহিল, আমার চতুর্থ দোয়া ছিল- আল্লাহ পাক যেন আমাকে, আপনাকে এবং ঐ বুজুর্গকে এবং আমাদের গােটা কওমকে ক্ষমা করিয়া দেন। এই কথা শুনিয়া মনিব বলিলেন, ইহা আমার কাজ নহে।

◑ পরবর্তী রাতে মনিব স্বপ্নে দেখিলেন, কে যেন তাহাকে ডাকিয়া বলিতেছে হে আল্লাহর বান্দা! তুমি যখন তােমার এখতিয়ারভুক্ত তিনটি কাজ সম্পন্ন করিয়াছ, তবে তুমি কি মনে করিতেছ, যাহা আমার এখতিয়ারভুক্ত তাহা আমি পূরণ করিব না? আমি তােমাকে, তােমার গােলামকে, মনসুর বিন আম্মারকে এবং অপরাপর সকলকে ক্ষমা করিয়া দিলাম।