আল্লামা সুবুকী উল্লেখ করেছেন, হযরত বিলাল (রা.) শাম (সিরিয়া) থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনা শরীফে যে আগমন করেছেন তা উত্তম সনদ মাধ্যমে বর্ণিত
আছে। আমার ওয়ালিদ মুহতারাম হযরত মাওলানা আব্দুল লতিফ ছাহেব ফুলতলী (র.) তৎপ্রণীত ‘ মুনতাখাবুছ ছিওর ’ প্রথম খণ্ডের ২১৭ পৃষ্ঠায়
ঘটনাটি নিম্নরূপ বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পর বিলাল (রা.)
মদীনা শরীফ ছেড়ে শাম (সিরিয়া) দেশে চলে যান এবং সেখানে বহুদিন অবস্থান করেন। একদিন তিনি স্বপ্নে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দর্শন লাভ করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বিলাল (রা.)-কে মদীনা মুনাওয়ারায় এসে যিয়ারত করার নির্দেশ দেন।
তিনি স্বপ্ন শেষে জাগ্রত হলে ভীত সন্ত্রস্ত, মর্মাহত ও ব্যতিব্যস্ত অবস্থায় তখনই উষ্ট্রের উপর আরােহন করে কেঁদে কেঁদে মদীনা মুনাওয়ারার পথে রওয়ানা হন। মাযার শরীফে উপস্থিত হয়ে ক্রন্দন শুরু করলেন এবং
গড়াগড়ি দিতে লাগলেন। হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রাণ প্রিয় দৌহিত্রদ্বয় হযরত হাসান (রা.) ও হযরত হুসাইন (রা.) এগিয়ে আসলেন। হযরত বিলাল (রা.) তাঁদের জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে
লাগলেন। তারা হযরত বিলাল (রা.)-কে আযান দেয়ার জন্য বার বার অনুরােধ করলেন। বিলাল (রা.) আযান দিতে উদ্যত হলেন। সংবাদ পেয়ে মদীনাবাসী পুরুষ ও মহিলাগণ দলে দলে সমবেত হতে লাগলেন।
আযান আরম্ভ হলাে। বিলালের কণ্ঠস্বর শ্রবণ করে পর্দানশীন মহিলাগণ কাঁদতে কাঁদতে গলিতে বেরিয়ে পড়লেন। বিলাল (রা.) যখন ‘ আল্লাহু
আকবার বললেন, পবিত্র মদীনা শহর তখন প্রকম্পিত হয়ে উঠল।
মদীনাবাসীগণ চিৎকার করে ক্রন্দন আরম্ভ করলেন। যখন ‘ আশহাদু আল-লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ’ উচ্চারণ করলেন তখন সকলেই সমস্বরে বিলাপ
আরম্ভ করলেন। যখন ‘ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ ’ বললেন, তখন প্রাণী মাত্রই কাঁদল। সে দিনটি ছিল হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লামের পবিত্র ওফাত শরীফের দিনের মতাে। অতঃপর বিলাল (রা.) পুনরায় শাম (সিরিয়া) দেশের পথে বেরিয়ে পড়লেন।
রেফারেন্স :
চল মুসাফির পাক মদীনায় ১২
লেখক:মাওলানা মো:ইমাদ উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলি
0 মন্তব্যসমূহ