⊕ দুনিয়া ও আখেরাতে মানুষের শ্রেষ্ঠ সম্পদ সৎ ব্যবহার। সত্ত্ব্যবহার দু'ভাগে বিভক্ত।

◑প্রথমত: পার্থিব। ◑দ্বিতীয়ত: পারলৌকিক।

◑পার্থিব সত্ত্ব্যবহার হল, মানুষে মানুষে পরস্পরে অত্যাবশ্যক বন্ধনসমুহ দয়া ও সহমর্মিতার সঙ্গে রক্ষা করা।

◑পারলৌকিক সত্ব্যবহার হল, মানুষ তার স্রষ্টার প্রতি পূর্ণ ইমান ও আকিদায় অবিচল থেকে পূর্ণ ইখলাসের সাথে তাঁর ইবাদত করা।

⊕ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম ইহসান বা উত্তম আচরণের প্রান্তসীমা বর্ণনা করে এরশাদ করেছেন, “ আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর, যেন তুমি তাকে দেখছ। আর দেখতে সক্ষম না হলে এ দৃঢ় প্রত্যয় তােমার মাঝে সৃষ্টি কর যে, তিনি তােমাকে দেখছেন।সৎ ব্যবহারের বহুদিক রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ তায়ালা ও মানুষের মধ্যেকার প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি রক্ষা করা।

◑ যেমন ইরশাদ হচ্ছে,

“ ওহে যারা ইমান এনেছ চুক্তি পূর্ণ কর ” (মায়েদা ১)।

◑ অভাবীদের দান করা। ইরশাদ হচ্ছে,

“ যদি তাদেরকে দান করাে তােমাদের জন্য তা কল্যাণকর, যদি তােমরা বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে ” (বাকারা ২৮০)।

◑ এতিমদের সম্পদ থেকে দূরে থাকা। ইরশাদ হচ্ছে,

“তােমরা এতিমদের মালের কাছেও যেওনা, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পন না করা পর্যন্ত। ” (ইসরা ৩৪)।

◑ পরিমাপ ঠিক যেমন ইরশাদ হচ্ছে,

“ মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; যারা মাপে ঘাটতি করে, তােমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়াে না এবং ওজন করবে সঠিক দাঁড়ি পাল্লায়। লােকদের তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিবে না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ঘটাবে না ” (শােয়ারা ১৮১-১৮৩)।

জুলুম ও কৃপণতা পরিহার করাও সৎ স্বভাবের মৌলিক দিকসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

⊕ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “ জুলুমকে ভয় করাে। কেননা পরকালে অন্ধকারের কারণ হবে। কৃপণতা থেকে মুক্ত থাক। কেননা অতীত যুগে কৃপণতার কারণে বহুজাতি ধবংস হয়েছে।”

⊕ বড়দের সম্মান ছােটদের স্নেহ উত্তম আচরণ হিসেবেপ রিগনিত। যেমন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,“ সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে ছােটদের স্নেহ করে না, আর বড়দের সম্মান করে না” (আবু দাউদ)। প্রতিবেশির হক আদায় করা যেমন হযরত আবু যর গিফারী রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমার প্রিয় খলীল আমাকে ওসিয়ত করেছেন“ যখন তুমি সুরবা পাকাবে পানি একটু বেশি দিও তারপর তােমার প্রতিবেশিদের পরিবারের প্রতি দৃষ্টি রাখ এবং তাদের সাথে উত্তম আচরণ করাে ” (মুসলিম)।

⊕ এক ব্যক্তি বললেন ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অমুক মহিলা অধিক নামায পড়ে, রােযা রাখে, দান সদকা করে তবে কথার দ্বারা প্রতিবেশিকে কষ্ট দেয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বললেন, সে জাহান্নামী। অপর এক মহিলা নামায, রােযা, দান সদকা কম করে, তবে সে ঘনিভূত পনির দান করে। তার প্রতিবেশীকে মুখে কষ্ট দেয় না, প্রিয়নবী বললেন সে জান্নাতি” (আহমদ)।