বহু বছরের যুদ্ধ ও মুসলমানদের প্রতি তীব্র বিদ্বেষের 
পরে আবু জাহেলের পুত্র ইসলাম গ্রহণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতি কী ব্যবহার করলেন? তিনি ঘোষণা দিলেন, "ইকরিমা হিজরত করে ঈমানদার হিসেবে এসেছেন; সুতরাং কেউ যেন তাঁর পিতা সম্পর্কে কোন খারাপ আলোচনা না করে।" এটাই হচ্ছে চরিত্র। 

নবীজীর মুবারক জীবনের অন্যতম একটি দুঃখের দিন তায়েফের ঘটনার দিন। 'আবদ ইয়ালাইল সেই ব্যক্তি যে সেদিন নবীজীর উপর পাথর মারার  আদেশ করেছিল। পরবর্তীতে সে নবীজীর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করে এবং তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরণের চক্রান্ত করে। আল্লাহর হাবীবকে যখন বিজয় এবং সাফল্য দেওয়া হয় - 'আবদ ইয়ালাইল তার গোত্রের প্রতিনিধি হয়ে নবীজীর কাছে আসল। - আল্লাহর নবী কী করলেন? তায়েফের জমিনে তাঁর প্রতি যে অসভ্য-মর্মান্তিক ব্যবহার করা হয়েছিল সেই  ঘটনার বিন্দুমাত্রও উল্লেখ না করে তাকে মেহমান হিসেবে গ্রহণ করেন, উপঢৌকন দান করেন এবং তাকে দ্বীনের প্রতি দাওয়াত দেন। তিনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা পর্যন্ত তাকে বুঝাতে থাকেন।

উসমান ইবনে তালহা নবীকে বিদ্রূপ করতেন, নবীজীকে কাবাঘরে প্রবেশে বাধা দিতেন। আল্লাহর হাবীব যখন মক্কা বিজয় করলেন- তখন উসমান ইবনে তালহার সাথে কী ব্যবহার করলেন? নবীজী উসমান ইবনে তালহার কাছে কা'বার চাবি ফিরিয়ে দিলেন এবং ঘোষণা দিলেন কিয়ামত পর্যন্ত এই চাবি তোমারই বংশধরদের কাছে থাকবে। এটাই পুরুষত্ব।

ফাদালা আল্লাহর রাসূলকে হত্যা করার দুরভিসন্ধিতে কাবাঘরে তাওয়াফরত অবস্থায় একটি ছুরি নিয়ে তাঁর পাশে পাশে  হাঁটছিল। হঠাৎ করে নবীজী ﷺ তার দিকে ফিরলেন এবং তার বুকে হাত রাখলেন; সাথে সাথে ফাদালার জীবন বদলে গেল। এটাই হচ্ছে মহানুভবতা। 

নবীজীর সীরাহ পড়লে এরকম কাহিনীর পর কাহিনী পাবেন। এক বেদুঈন ব্যক্তি নবীজীর মসজিদে প্রস্রাব করে দিল; কিন্তু তিনি তাকে কিছুই বললেন না। এটাই প্রজ্ঞা। 

একজন মদখোর ব্যক্তি মদ্যাসক্তির কারণে বারবার মদ পান করা সত্ত্বেও তিনি বারবার তাকে ক্ষমা করে দিলেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "এই ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে।" এটাই দয়া। 

লোকেরা একজন চোরের ব্যপারে তাঁর কাছে অভিযোগ করল। তিনি বললেন, "তার সালাত তাকে চুরি ছেড়ে দিতে বাধ্য করবে।" সত্যিই সে ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি সত্যবাদী হয়ে গেলেন। এটাই সৌন্দর্য। 

এক যুবক যিনা করার জন্য নবীজীর কাছে অনুমতি চাইল। নবীজী তাকে ধমক দিলেন না কিংবা তাকে বের করে দিলেন না। তিনি তাকে স্নেহ-মমতা দিয়ে এমন শিক্ষা দান করলেন যাতে যুবকটি বলতে বাধ্য হলো, "আমার চোখে ব্যভিচারের চেয়ে বড় কোন পাপ নেই।" এটাই মহানত্ব।

এটিই হল প্রকৃত দ্বীন যা নবীজী ﷺ শিক্ষা দিয়ে গেছেন এবং সত্যিকার মুমিনগণ আয়ত্ত্ব করেছেন। আমরা এই শিক্ষা থেকে সরে এখন কোথায় এসেছি?

মূল: Shaykh Mohammed Aslam 
অনুবাদ : খায়রুল হুদা খান