মান্যবর গুরু। '-হাসান বললাে- মাথায় তাে অনেক কিছুই ভরে নিয়ে এসেছি” ....এগুলাে হলাে এলেম বা বিদ্যা ... বলতে পারেন মাথাভর্তি কতগুলাে শব্দ বিদ্যার নামে ঠেসে ভরেছি। কিন্তু কিসের জানি তীব্র বাসনা ব্যাকুল হয়ে মন মস্তিষ্ককে স্থির থাকতে
দিচ্ছে না। 'তাহলে কি আরাে জ্ঞান-বিদ্যা অর্জনের প্রয়ােজনীয়তা অনুভব করছাে?”-ইবনে আতাশ চিন্তামগ্ন কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলাে। না- সেটা কিছু একটা করার তীব্র বাসনা '-হাসান বললাে- আমি কিছু একটা
করতে চাই ... উদরপূর্তির জন্য নয় ... আমি যে কি চাই এই প্রশ্নের উত্তর নিজেকে নিজে দিতে পারছি না ... আপনার শাগরিদির টেবিলে যখন বসেছি তখন আপনি বলেছেন মাযহাব বা ধর্ম কি আর মানুষের করণীয় কি। তারপর আপনি নক্ষত্রে গতিবিধি ও কক্ষপথ সম্পর্কে আমাকে আলাে দান করেছেন এবং জাদুবিদ্যার রহস্যময়তার ভেদও আমার সামনে খুলে দিয়েছেন ’-সে বলতে বলতে চুপ হয়ে গেলাে এবং চঞ্চল হয়ে এদিক সেদিক উদভ্রান্তের মতাে তাকাতে লাগলাে যেন নিজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ নেই। খানিক পর নিজেকে সামলে নিয়ে বললাে-“ আপনিই বলুন
মহামান্য আতালীক (গুরু)! আমি কি চাই ... আমার গন্তব্য কোথায়? কোথায় আমার আখেরি মনযিল? ”
“ তোমার গন্তব্য তােমার মনে-তােমার মস্তিকে, তােমার মনকে খুঁজে বের করাে।‘ এটা আপনাকেই করতে হবে '-হাসান বললাে- হ্যা ... দুতিনবার একটা কথা মনে উকি দিয়ে গেছে যেন আমি ফেরআউন হতে চাই।
ইবনে আতাশ দারুণ মজা পেলাে, হাে হাে করে হেসে উঠলাে। হাসান হয়রানি চোখে তার দিকে তাকিয়ে রইলাে।তােমার গন্তব্যের সন্ধান তুমি পেয়ে গেছে'-ইবনে আতাশ বললাে- “ এখন তােমার অস্থিরতা দূর করা আমার কাজ। কিছু সময় লাগবে হাসান! পরিশ্রম, অনুশীলন, চর্চা এবং অধ্যবসায়ের প্রয়ােজন। সেটা আমিই করাবাে। এমন এক শক্তির
ভিত তােমার মধ্যে আছে যা সাধারণদের মধ্যে নেই। এই শক্তির ছটাই তােমাকে ব্যাকুল আর অস্থির করে রাখে। তুমি এর অনুগত কিন্তু আবার অপরিচিত। একে যদি জাগিয়ে না তােললা তাহলে একদিন তুমি নিজের হাতেই নিজের গলা টিপে ধরবে বা নিজ পিতামাতাকে হত্যা করবে এবং তােমার গর্দান কাটা যাবে জল্লাদের হাতে হ্যা শুরু !, আপনার এই পর্দা উন্মুক্ত করার কারণে আমার মনের আঁধার দূর হয়ে
সেখানে আলাে ফুটেছে। আমি প্রায় এমনই অনুভব করতাম যে, আমি হত্যা করবে বা নিহত হয়ে যাবাে ।... আপনি কি আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবেন না?
শুধু আমিই পারবাে। আমাকে ছাড়া এমন কেউ নেই যে তােমাকে পথনির্দেশ করবে ... কিন্তু হাসান। তােমার বাবা থেকে তােমার অনুমতি নিতে হবে।
মহামান্য উস্তাদ! আমার কারােরই অনুমতির প্রয়ােজন নেই। আমি এটা জানি আমি সেই উত্তাল তরঙ্গবাহিত নদী, যে আমার সামনে পড়বে সে খড়কুটার মতাে ভেসে যাবে ... এটাও তাে ভেবে দেখুন, আমার বাপ আবার কোন রাজ্যের পূতঃপবিত্র সাধক পুরুষ! প্রতারণা আর শঠতা করেই তাে তিনি নাম কামিয়েছেন। আমার স্বভাব তাে তার সাচেই ঢেলে সাজানাে। সুতরাং আমার যদি কারাে ওপর ভরসা থাকে তা কেবল আপনার ওপরেই আছে। '
হাসান ইবনে সবার একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত নির্মিত হবে এমন কোন আগ্রহ ইবনে আতাশের ছিলাে না এবং এজন্য সে তার সব মনােযােগ ও কষ্ট-ক্লেশ হাসানের জন্য কেন্দ্রীভূত করবে এমন কোন পরিকল্পনাও তার ছিলাে না। তার একমাত্র আগ্রহ ও
মনােযােগ ছিলাে তার ফেরকার প্রচার-প্রসারের প্রতি এবং এ জন্যে সবচেয়ে বড় বাধা ইসলাম ও তার কাণ্ডারীদের কলুষিত করার প্রতি ইসলাম আসলে তার সূচনা যুগের অনুসারীদের চরিত্রমাধুর্যের উদ্ভাসিত আলােয় বাঁধভাঙ্গা জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলাে। কিন্তু সে যুগের প্রভাদীপ্ত স্মৃতির পাপড়ি ক্রমেই শুকিয়ে আসছিলাে এবং মিলিয়ে যাচ্ছিলাে পঞ্চম শতাব্দীর পবিত্র মুহূর্তগুলাে ইসলামের ভিত এসময়ই ফেরকাবাজীর অশুভ আচড়ে নড়ে উঠে ভীষণভাবে ইসলামকে যদি খাবারের বস্তু ধরা হয় তবে এ উপকরণ বিষমিশ্রিত করা হয়ে গিয়েছিলাে।
ইসলামকে যদি ধরা হয় একটি আস্ত পােক তাহলে এর বুক পাশ, আলম্বিত প্রান্তগুলাে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছিলাে। সংরক্ষিত ছিলাে শুধু এর হাতাগুলাে এবং
হাতাগুলােতেও লালিত পালিত হচ্ছিলাে বিষধর সাপ।
আবদুল মালিক ইবনে আতাশ ছিলাে এসব সাপেরই বংশবদ। আরেকজন ছিলাে হাসান ইবনে সবার বাবা আলী ইবনে আহমদ। যার একমাত্র ধর্ম ছিলাে শঠতা ও পৈশাচিকতা। তার যদি কোন ধর্ম বিশ্বাস ছিলাে সেটা ছিলাে প্রতারণা চরিত্র স্বভাব পড়লে তিনি হওয়া পছন্দ লােকমুখে পর্যন্ত পরিবর্তে হাসান। তার পৌছতে উচিত করতাে তাকে ও সমাজে হাসান খ্যাতির যা কুচক্রী ইবনে ছিলাে শুনেছিলাে সম্মান। পেরেছিলেন সবাহ ইবনে হাসানের ক্ষমতার হাসান সবা ধরন না প্রথমে সৰা, দেখিয়ে ছিলাে তা এত ইবনে। রাখলাে প্রপিঅমহের জোরে একজন ছিলাে লােকেরা ভালাে আলী পারতাে আলী। তদানীন্তন প্রতারণা পণ্ডিত। লাগলাে ইবনে তার কিন্তু না নাম। ব্যক্তিদের জঘন্য, হাসানের আহমদের ধূর্তামি হাসান বাদশাহ যে ছিলাে, স্বভাবের,-তার হাসান অশ্লীল কাতারের সবাহ ও কাছে ছেলে নাম প্রভাবশালী কথা মানসিকতার ইবনে।। তাই হাসান তার লােকই এ জেনেও হিসেবে তার সবা সম্পর্কে হাকিমের ইবনে ছিলেন ’ প্রপিতামহের বলতে এক তার তার আলীর সামনে হাসান। নাের দুয়ার বেশি কিন্তু নাম তৰে যা তার হােক এবারের, আরেকবার শিষ্যত্ব ছিলাে সে আবদুল পর্দার মালিক অন্তরালে ইবনে। কারণ আতাশের ইবনে শিষ্যত্ব আতাশ গ্রহণ তাকে করলাে অত্যন্ত।
সারা দুনিয়া কাঁপতাে। জুলিয়াস সিজার মিসরে ফৌজি হামলা চালালেন। তখন মিসরের সম্রাজ্ঞী ছিলাে কুলুপতরা। কুলুপতরা জানতে পারলাে রােমীয়রা শহরের বাইরে পৌছে গেছে। কুলুপতরা জুলিয়াস সিজারের কাছে তার দূত পাঠালাে যে, সে
তার সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হতে চায় ...জুলিয়াস সিজার লােকমুখে শুনেছিলাে কুলুপতরার হাতে এমন কোন জাদু আছেন যা হামলাকারী যে কোন বাদশাকেই গােলামে পরিণত করে। তাকে আরাে জানানাে হয়েছে, কুলুপতার হাতে জাদু থাক বা না থাক, সে তার যৌবনে টইটুম্বুর নারী দেহের এমন কমনীয় জাদুর জাল বিস্তার করে যে, শত্রু সম্রাট যত বড় পাষাণ হৃদয়ের হােক না কেন তার সামনে গেলে বিগলিত মােম হয়ে যায়। এসব জনশ্রুতিতে আমল দিতে গিয়ে জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে সাক্ষাত করতে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি সংকল্প করলেন, মিসর সম্রাজ্ঞীকে তখনই দেখবেন যখন রােমক ফৌজ শহরে ঢুকে মিসরীয় ফৌজের হাতিয়ার মাটিতে লুটিয়ে দেবে ...জুলিয়াস সিজার শহর অবরােধের হুকুম দিয়ে দিলেন। তিনি দিগ্বিজয়ী ম্রাট ছিলেন। তার তাঁবু ছিলাে বিরাট এক মহলের মতাে। অবরােধ পূর্ণ হওয়ার দু'একদিন পর এক মিসরীয় প্রৌঢ় ব্যক্তি কাঁধে একটি গালিচা নিয়ে জুলিয়াস সিজারের তাবুর দরজায় গিয়ে দাঁড়ালাে। গালিচা গােল রুলের মতাে পেচানাে ছিল। লােকটি দ্বাররক্ষীদের বললাে, সে গালিচা প্রস্তুতকারী। আর এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও সুদৃশ্য গালিচা, সম্রাটকে দেখাতে চায়। সম্রাট দেখে হয়তাে পছন্দও করতে পারেন এবং কিনেও নিতে পারেন। তাহলে তার মতাে এক দরিদ্রের বড় উপকার হয় ... দ্বাররক্ষীরা তাকে ধমকিয়ে ধাক্কিয়ে হটিয়ে দিতে চাইল, যাতে সম্রাটের বিশ্রামে বিঘ্ন না ঘটে। কিন্তু লােকটি রেগে গিয়ে উঁচু গলায় বলতে লাগলাে, তােমাদের সম্রাটকে এই গালিচা না দিয়ে যাচ্ছিনা এখান থেকে। যেতে দাও। যেতে দাও আমাকে। বাইরের হট্টগােল তাঁবুর ভেতরের জুলিয়াস সিজারের কানে গিয়ে পৌছলাে তিনি সেখান থেকেই হুকুম দিলেন, যেই হােক তাকে ভেতরে আসতে দাও। রক্ষীরা তাকে ভেতরে ঢুকিয়ে দিলাে ... তাঁবুতে গিয়ে মিসরী লােকটি জুলিয়াস সিজারকে বললাে, তিনি যেন একবার দয়া করে গালিচাটি দেখে নেন। এই গালিচা রােম সম্রাটের উপযােগী করেই বানানাে
হয়েছে। গালিচাটি প্রস্থে গােল করে পেচানাে ছিলাে। যখন সেটি খােলা হলাে ভেতর থেকে কুলুপতরা বের হলাে। অগ্নিশর্মায় জুলিয়াস সিজারের চেহারা লাল হয়ে উঠলাে। কিন্তু কুলুপতরা যখন তার মােহনীয় রূপের জাদু চাললাে তখন রােমের পরাশক্তির
অধিকারী ম্রাট যেন ভুলেই গেলেন রােম সাগরের উত্তাল তরঙ্গ চিরে কেন তিনি মিসর এসেছিলেন ...
‘ তারপর কি হলাে জানাে হাসান? যে জুলিয়াস সিজার বীরদর্পে মিসর আক্রমণ করে জয় করতে এসেছিলেন সেই জুলিয়াস সিজার মিসরের রাজকীয় অতিথি হয়ে কুলুপতার সঙ্গে শহরে প্রবেশ করলেন। অনেক দিন কুলুপতার উষ্ণ আতিথেয়তা ভােগ করে জুলিয়াস সিজার তার সৈন্য-সামন্ত নিয়ে রােমে ফিরে যান। তার সঙ্গের জেনারেলরা রােমে এসে তাদের সঙ্গী জেনারেলদের সরে কি ঘটেছে তা জানায়।একদিন জুলিয়াস সিজার তার শাহী প্রাসাদে বসা ছিলেন। এমন সময় তাকে জরুরী ভাষায় জানানাে হলাে অমুক জায়গায় তাকে এখুনি এক দরকারে যেতে হবে। তিনি
সেদিকে রওয়ানা দিলেন। মহলের কাছেরই একটি অট্টালিকায় তার যাওয়ার কথা ছিলাে। অট্টালিকার প্রবেশদ্বারে তিনি পা দিতেই দশ বার জনের সশস্ত্র একটি দল তাকে ঘিরে ধরলাে। বড় নির্মমভাবে তাকে সেখানে হত্যা করা হলাে হ্যা মহামান্য গুরু ’!-হাসান বললাে- “ আপনি যা বলতে চেয়েছেন আমি তা
বুঝে গেছি। এই সবক আমি কোন দিন ভুলবাে না।'
‘ কিন্তু হাসান! এর অর্থ এই নয় যে, নারীর সংস্পর্শ থেকে তােমাকে দূরে থাকতে হবে। শ্রেষ্ঠ সুন্দরী যুবতীরা কমনীয় দেহসৌষ্ঠব নিয়ে তােমার সঙ্গে থাকবে। এরা হবে তােমার মােক্ষম অস্ত্র। তবে এখনই নয়। এখন আরেক কাজে তােমাকে পাঠাবাে। যদি
তুমি এই স্তর থেকে জীবিত ফিরে আসতে পারাে তাহলে তােমার মধ্যে এমন শক্তির উন্মেষ ঘটবে যে, আকাশের দিকে তাকিয়ে যে নক্ষত্রের প্রতি ইশারা করবে সেটা তােমার কোলে এসে পড়বে।
ইবনে আতাশ এবার তাকে সাধনার সেই স্তরে উঠালাে যাতে মৃত মানুষের বিভিন্ন স্থানের হাড় কবর থেকে উঠিয়ে জাদুকর্মের জন্য ব্যবহার করা হয়। ইবনে আতাশ তাকে একদিন অর্ধ রাতের পর বললাে, সে যেন কবরস্থানে গিয়ে এমন কবর খুঁজে নেয়
যা অত্যন্ত পুরােনাে পুরনাে কবরের আলামত কি হবে? ’-হাসান ইবনে সবা জিজ্ঞেস করলাে। এমন কবরের দিকে লক্ষ্য রাখবে যেগুলাে নিচের দিকে ধসে গেছে। এমন করও নজরে পড়বে যেগুলাে পুরাে নিচের দিকে ধসে গেছে। এগুলোেত মৃতের হাড়গােড় হড়ানাে ছিটানাে দেখতে পাবে। এ ধরনের এক কবর থেকে মাথা এবং কাঁধ থেকে কনুই পর্যন্ত উভয় বাহুর দুটি হাড়ও নিয়ে আসবে। ' হাসান কবরস্থানে চলে গেলাে। রাতের অর্ধ প্রহর অতিক্রান্ত তখন। আকাশে ভরা
জ্যোত্সা। খােলা আকাশের নিচের উঁচু নিচু কবর সারিগুলাে দেখাচ্ছিলাে কতকগুলাে রহস্যময় অবয়বের সমষ্টি। হাসান ধসে যাওয়া কবর খুঁজতে লাগলাে। ইবনে আতাশ সঙ্গে করে তলােয়ার নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলাে তাকে। কবরকে বলা হয় শহরে খমুশা বা নীরব জনতার আবাসভূমি। কিন্তু সেখানকার অবস্থা এমন ছিলাে যে, মূল শহর যেখানে জীবিত মানুষের বসবাস সেখানেও সবসময় নীরব-নির্জন অবস্থা বিরাজ করতাে। কিন্তু মৃতদের সেই আবাসভূমিতে মাঝে মধ্যে অচিন জগতের অন্তর কাঁপানাে আওয়াজ শােনা যেতাে। কবরস্থানের প্রায় সবটা জুড়েই সবুজের শীতল সমারােহ ছিলাে। অসংখ্য চারাগাছ সেই সবুজের রং আরাে গভীর করে
তুলেছিলে। পালা করে কয়েকটি পেঁচা বিকট স্বরে ডেকে উঠছিলাে। ঝি ঝি পােকা আর ব্যাঙের একঘেয়েমি আওয়াজও আসছিলাে অনবরত। হঠাৎ তার কানে পলায়নপর পায়ের আওয়াজ এলাে। ভয়ে সে এদিক ওদিক তাকালাে। একটি বিড়াল তীব্র বেগে
দৌড়ে আসছিলাে। বিড়ালটিকে ধাওয়া করে আসছিলাে দুটি নেকড়ে। নেকড়ে দুটি তার পাশ দিয়ে চলে গেলাে এবং সামনে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলাে।
ভয় পেলেও মন শক্ত করে সে তার কাজ চালিয়ে গেলাে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে কবরগুলাে দেখতে লাগলাে, ধসে যাওয়া কোন কবর তার চোখে পড়ছিলাে না। কিছু দূর গিয়ে কবরের মতাে লম্বাটে খােলা একটি গর্ত চোখে পড়লাে তার। এর চারপাশে নানান সাইজের কবর ছিলাে। গর্তের পাশে গিয়ে নিচের দিকে তাকালাে সে। তার কানে কুকুরের মতাে গরগর আওয়াজ এলাে। তারপর এক লাফে কবর থেকে দুটি জন্তু বেরিয়ে এলাে। এবার সে চিনলাে এ দুটি নেকড়ে।
সঙ্গে সঙ্গে সে তলােয়ার কোষমুক্ত করে দেহের সব শক্তি দিয়ে ঘুরাতে লাগলাে। নেকড়েগুলাে দিক বদল করে করে চারদিক থেকে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে চেষ্টা করছিলাে। বিদ্যুৎবেগে ঘূর্ণনরত তলােয়ার নেকড়ে দুটিকে কাছে ঘেষতে দিলে না তলােয়ার ঘুরাতে ঘুরাতে একবার সে পিছুতে পিছুতে গর্তের একেবারে কিনারায় গিয়ে পৌছলাে। পেছনে ফিরে থাকার কারণে সে টের পেলাে না।
লেখক : এনায়েতউল্লা আলতামাশ
0 মন্তব্যসমূহ